ঢাকাWednesday , 14 October 2026
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অচলাবস্থার নিরসন কল্পে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি।। ননানা সংকট ও জনবল ঘাটতির কারণে প্রায় ৪ লাখ জনগোষ্ঠীর কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে নিজেই ‘রুগ্ন’ হয়ে পড়েছে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ অবস্থার নিরসন ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের জরুরি ও গুণগত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির গুরুত্বপূর্ন সভা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আয়োজিত এই ঘন্টাব্যাপী সভায় সভাপতিত্ব করেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু তালেব মন্ডল।
সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা হাসপাতালের বিভিন্ন বিরাজমান সংকট ও তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। এতে বক্তব্য রাখেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মন্ডল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মাদ শোয়াইব, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডক্টর শোভন পাল, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মান্নান টিপু এবং আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডক্টর কাবেরী শা।
সাংবাদিকদের মধ্য থেকে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘সমাজকাল ডটকম’-এর ঈশ্বরদী প্রতিনিধি শেখ মেহেদী হাসান এবং ‘দৈনিক আমার দেশ’-এর প্রতিনিধি ওহিদুজ্জামান সোহেল। এছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসকমণ্ডলী, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের কর্মক্ষেত্রের নানা বাস্তব সমস্যা ও ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন।
সভায় উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও দাবি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত সোলার বা আইপিএস ব্যবস্থা স্থাপন, নষ্ট সিলিং ফ্যান পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু রোগীদের জন্য কিট ও প্রয়োজনীয় আইভি স্যালাইনের ঘাটতি দূর করা।
চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান সংকট নিরসন: মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহ সকল শূন্যপদ দ্রুত পূরণ এবং ইসিজি টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া।
অ্যানাস্থেসিয়া (অজ্ঞানকারী) চিকিৎসকের অভাবে দীর্ঘ এক বছর ধরে বন্ধ থাকা প্রসূতিদের সিজারিয়ান সেবা দ্রুত চালু করা।
ওয়ার্ড ও শৌচাগারসমূহ সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশ্রামাগার ও ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করা।
রোগীদের সুবিধার্থে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা এবং হাসপাতালের চারপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোকে কঠোর নজরদারির আওতায় আনা।
হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ওষুধের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রি বন্ধ করা এবং ঠিকাদার কর্তৃক রোগীদের সরবরাহকৃত খাবারের মান যাচাই ও নিশ্চিত করা।
সভাপতি ও অতিথিরা জানান, ঈশ্বরদীবাসীর প্রাথমিক চিকিৎসার এই প্রধান কেন্দ্রটিকে দ্রুততম সময়ে পূর্ণাঙ্গ ও গণমুখী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।