ঢাকাTuesday , 29 September 2026
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম আসছে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে

জয়পত্র ডেস্কঃ
September 29, 2026 11:55 am
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি।। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি তথা ইউরেনিয়াম অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে আসছে। মোট সাতটি চার্টার্ড ফ্লাইটে এই জ্বালানি আনার কথা রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যমতে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই প্রথম চালান দেশে পৌঁছাতে পারে।
আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত রুটে একটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি ফ্লাইট বাংলাদেশে আসতে পারেনি। তবে এখন সেই জটিলতা কাটিয়ে বিকল্প রুটে ইউরেনিয়াম আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রোববার সংবাদমাধ্যমকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘একটি দেশ তাদের আকাশপথ ব্যবহারে বাধা দিয়েছিল। তবে রাশিয়া নতুন করে এই জ্বালানি সরবরাহের সময়সূচি দিয়েছে। আশা করছি, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই জ্বালানি বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে।’
এনপিসিবিএলের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত জ্বালানিবাহী ফ্লাইট বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশে আসে। পরদিন সকালে বিশেষ নিরাপত্তায় জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। এ হিসেবে আগামী ১ অক্টোবর প্রথম চালান পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে রোসাটম ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আকাশসীমার অনুমতি না পাওয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বর জ্বালানিবাহী কার্গো বিমানটি বাংলাদেশে আসতে পারেনি। রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, ওই দিন জ্বালানি আসার কথা ছিল এবং প্রকল্প কর্তৃপক্ষ গ্রহণের জন্য প্রস্তুতও ছিল। পরে রোসাটমের পক্ষ থেকে ফ্লাইট বিলম্বের বিষয়টি জানানো হয়।
তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় ফ্লাইটের পরবর্তী সময়সূচি লিখিতভাবে জানাতে রোসাটমকে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের পুরো জ্বালানি বাংলাদেশে আসবে। সাতটি ফ্লাইটে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রাশিয়া থেকে আনার কথা রয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্পর্শকাতর এই পারমাণবিক জ্বালানি বিশেষ কার্গো বিমানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেশে আনা হয়। বিমানটি যেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে, সেসব দেশের অনুমতিও প্রয়োজন হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়া ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও একটি দেশের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়।
সূত্র জানায়, নির্ধারিত রুটে কার্গো বিমানটির কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। এখন চীন, মিয়ানমার হয়ে কিংবা বিকল্প কোনো রুটে জ্বালানি আনার চেষ্টা হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের জটিলতার পেছনে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত বা চিঠিপত্র সময়মতো না পৌঁছানো, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি কিংবা অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানায়নি।
উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে পদ্মার তীরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর রয়েছে, যার সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
এর আগে রোসাটমের নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেটস প্ল্যান্টে উৎপাদিত ১৬৪টি তাজা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ২০২৩ সালে অক্টোবরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাশিয়া থেকে রূপপুর প্রকল্পে হস্তান্তর করা হয়।