নিজস্ব প্রতিনিধি ।। ঈশ্বরদীতে পূর্ববিরোধের জের ধরে আনিছুর রহমান নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ঈশ্বরদী উপজেলার নতুন রূপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নেন।
বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৪ অক্টোবর রাতে চর রূপপুর বিবিসি বাজারের চেরু মার্কেটের সামনে শিক্ষক আনিছুর রহমানকে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে যাওয়া এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একজন শিক্ষকের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘শিক্ষকের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার কর, করতে হবে’, ‘হামলাকারীদের বিচার চাই, বিচার চাই’, ‘শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত কর’, ‘অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার কর’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ থেকে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। অন্যথায় পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
নতুন রূপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আরিফ হোসেন বলেন, শিক্ষক আনিছুর রহমানের ওপর যে হামলা হয়েছে, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই। একজন শিক্ষক জাতির নির্মাতা। একজন শিক্ষকের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে হামলা ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এ ন্যক্কারজনক হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা : আফরোজা বুলবুল বলেন, আমার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনিসুর রহমানের ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। যতটুকু দেখেছি, মনে হয়েছে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা করা হয়েছে। ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো আসামি বা হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। কারণ আনিসুর রহমান যেভাবে ক্লাস নিতেন, অন্য কোনো শিক্ষক সেভাবে ক্লাস নিতে পারতেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী মিলে আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছি। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।
এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার বলেন, শিক্ষককে কখন ও কোথায় মারধর করা হয়েছে, তা আমার জানা ছিল না। আমি আজকেই বিষয়টি জানতে পেরেছি। গতকাল রাতে বিদ্যালয়ের সভাপতি আমাকে ফোন করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে মানব বন্ধনের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানববন্ধন করার অনুমতি অফিস দিতে পারবে না। বিশেষ করে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানব বন্ধন করার অনুমতি আমি দিতে পারি না। কোনো শিক্ষক নিজ দায়িত্বে ও নিজের ইচ্ছায় বিক্ষোভ করতে চাইলে সেটি তাঁর বিষয়। তবে স্কুল চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অন্য কোনো কাজে যুক্ত হতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, ওই শিক্ষককে কখন, কেন মারধর করা হয়েছে, তাঁকে স্কুল চলাকালীন সময়ে বা স্কুল প্রাঙ্গণে মারধর করা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। আমি শুনেছি তাঁকে রাতে মারধর করা হয়েছে। যদি পূর্বশত্রুতার জেরে বা ব্যক্তিগত কারণে রাতে তাঁকে মারধর করা হয়ে থাকে, তাহলে এ বিষয়ে শিক্ষা অফিসের করার মতো কিছু থাকে না।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আমরা এজাহার টি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছি । আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে ।
