নিজস্ব প্রতিনিধি ।। ঈশ্বরদীতে কলাবাগানে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। এ সময় পিস্তল, লোহার রড ও রামদা নিয়ে হামলা করা হয়। এতে নিরাপত্তাকর্মীর মা, বাবা ও দাদীসহ চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের দিয়াড় বাঘইল এলাকায় লাবলু বিশ্বাসের কলাবাগানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মী মো. নাইমুল ইসলাম জিন্নাহ বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি আব্দুর রব ওরফে আব্দুল্লাহকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে আব্দুর রব, শুভ্র (২২) ও রিমন (২৮) কলাবাগানে ঢুকে নাইমুলের পথরোধ করেন। একপর্যায়ে আব্দুর রব লোহার রড দিয়ে তাঁকে মারধর করেন। পরে শুভ্র তাঁর বুকের ওপর বসে গলা চেপে ধরেন এবং রিমন মারধর করেন।
নাইমুলের চিৎকার শুনে তাঁর মা নাছিমা বেগম (৫০) এগিয়ে এলে তার মাকেও রামদা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। পরে বাবা মো. ছাইদুল ইসলাম খাঁ ও দাদী মোছা. জবেদা বেগম (৭০) এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পিস্তলের গুলি ফুটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি ও খুন-জখমের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত নাইমুলকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁর বাবা-মাকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রূপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইয়াদুর রহমানের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার বিকেলে চরসাহাপুর নতুন হাট গ্রীনসিটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুর রবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তিন ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।’
পুলিশ জানায়, এর আগে গত ১২ মে রাতে দিয়ার সাহাপুর এলাকায় আব্দুর রবের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি ওয়ান শ্যুটার গান, ১৩টি শর্টগানের কার্তুজ ও ৬৪টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি পাবনা কারাগারে যান এবং সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি মাটি-বালুর ব্যবসার আড়ালে মাদক কারবার ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে জড়িত।
