ঢাকামঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে জ্বালানি লোডিংয়ের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু

জয়পত্র ডেস্কঃ
এপ্রিল ২৮, ২০২৬ ২:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি ।। বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে আজ  মঙ্গলবার ( ২৮ এপ্রিল ) এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটে বাটন পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং বা ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। 
 মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল দুপুর ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু হয়। এই ঐতিহাসিক যাত্রার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে সগৌরবে প্রবেশ করল। এর মাধ্রমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অভিজাত ক্লাবে নাম লেখাতে সক্ষমতা অর্জন করল বাংলাদেশ।
জ্বালানী লোডিং উপলক্ষ্যে প্রকল্প এলাকায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ যৌথভাবে বাটন চেপে এই মাহেন্দ্রক্ষণের উদ্বোধন করেন।
এসময় অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা  জনাব রেহান আসিফ আসাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ডিরেক্টর মিস্টার ওয়েই শুয়াং, রোসাটমের ডেপুটি ডিরেক্টর মিস্টার আন্দ্রে পেট্রোভ, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজেন্ডা খজিন এবং রুশ ফেডারেশন ও বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশের জন্য আজকে এই দিনটি ঐতিহাসিক। এটি বাংলাদেশের দীর্ঘযাত্রার এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, এটি আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জাতীয় আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। এই প্রকল্প জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত করার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরো বলেন, রাশিয়া আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের অকৃত্তিম বন্ধু। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় রাশিয়া রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। কারণ নিরাপত্তাই বাংলাদেশের প্রথম অগ্রাধিকার। এই পারমাণবিক কেন্দ্র ঢাকা ও মস্কোর মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেবে। 
চুল্লিতে পরমাণু রড আপলোডে  জ্ঞান ভিত্তিক প্রযুক্তি নির্ভর আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাওয়া উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ । প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে গেল। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাত নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, আজ বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর কাতারে যোগ দিয়েছে। নিঃসন্দেহে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার একটি মূল উপাদান হয়ে উঠবে। রোসাটমের জন্য, এই প্রকল্পটি বৈশ্বিক পারমাণবিক শিল্পের উন্নয়নে এবং আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা আমাদের বাংলাদেশী বন্ধুদের সাথে একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে একসাথে কাজ করতে পেরে আনন্দিত এবং আরও সহযোগিতার উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছি। এমনকি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ভবিষ্যতের প্রয়োজনে সহযোগিতা থাকবে রোসাটমের।
স্বাগত বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক মান ও নিরাপত্তা বজায় রেখে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রযুক্তির নতুন দুয়ারে প্রবেশ করলো। রূপপুর থেকে এই রূপান্তর ভবিষ্যত প্রজন্মকে এগিয়ে নেবে। তিনি জানান, এক বছরে পাচটি ধাপ অতিক্রমের মাধ্যমে আজ প্রথম চুল্লিতে ইউরোনিয়াম লোডিং করা সম্ভব হলো।
অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।
করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক নানা প্রতিবন্ধকতায় কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও সরকারের দৃঢ়তায় এই মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর নজরদারি এবং নিরাপত্তার সব শর্ত পূরণ করায় গত ১৬ এপ্রিল রূপপুর কর্তৃপক্ষকে পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের লাইসেন্স প্রদান করা হয়।