সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, মিশর, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, আজারবাইজান, ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক থেকে ইরানকে নিন্দা জানিয়ে দেওয়া বিবৃতি দুঃখজনক বলে জানিয়েছেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম। তিনি এর কঠোর সমালোচনা করেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিবৃতিতে এসব দেশের সরকারের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, “সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদলেহী এসব রাষ্ট্র ও তাদের সরকারগুলো ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক হামলার সামান্যতম নিন্দা না জানিয়ে উল্টো আক্রান্ত দেশ ইরানের সমালোচনা করেছে যা নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।”
ফয়জুল হাকিম বলেন, “কয়েকটি আরব ও ইসলামী দেশের এই বিবৃতিতে বিশ্ব সন্ত্রাসী যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল কর্তৃক ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা, মেয়েদের প্রাইমারি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ১৭৮ শিশু ও শিক্ষক হত্যার মতো নজিরবিহীন বর্বরোচিত ঘটনা। আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ পদদলিত করে ইরানে ১৯ দিন ধরে হামলার বিরুদ্ধে একটিও বাক্য নেই।”
ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, “বিবৃতি প্রদানকারী সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে ইরানের ওপর সামরিক হামলা পরিচালনা করা হলেও সে বিষয়ে বিবৃতিতে টুঁ শব্দটি নেই।”
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সাম্রাজ্যবাদের অনুগত, আরবের বেইমান শাসক গোষ্ঠীকে আরবের জনগণ অবশ্যই ক্ষমতা থেকে উৎখাত করবে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের মুখে দাঁড়িয়ে ইরানের জনগণ ও ইরান সরকার যেভাবে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে তা বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে অনুপ্রেরণাদায়ক। বিশ্বের শান্তিকামী জনগণ ইরানের ন্যায়যুদ্ধের পাশে আছে। ইরানের ন্যায়যুদ্ধ সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্যায় যুদ্ধকে পরাজিত করার মধ্যদিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রণনৈতিক আধিপত্য উচ্ছেদ করবে সেদিন বেশি দূরে নয়।”
তিনি বলেন, “ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক হামলার নিন্দা না জানিয়ে ও ইরানের সমালোচনা করে বাংলাদেশ সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।” তিনি অবিলম্বে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থান ঘোষণার দাবি জানান।
