মুক্তিযুদ্ধই আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ ইতিহাস। এ নিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা চলতে থাকবে। তবে এ নিয়ে এমন কিছু বলা যাবে না, যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন,শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য চরিত্র। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার দীর্ঘ প্রস্তুতি ছিল, যা ১৯৭২ ও ১৯৭৪ সালে দৈনিক বাংলা এবং সাপ্তাহিক বিচিত্রায় তার নিজের লেখা নিবন্ধে প্রকাশ হয়েছিল। আমার জানা মতে,তার সেই লেখা নিয়ে কেউ কখনো আপত্তি করেননি। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়া সম্ভববলে মন্তব্য করেন তিনি। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যারা অতীত নিয়ে পড়ে থাকেন, তাদের এক চোখ অন্ধ। আবার যারা অতীত ভুলে যান,তাদের দুই চোখ অন্ধ। তবে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার অতীত নিয়ে অতিরঞ্জিত চর্চা করেছে। আমরা বলব,সঠিক ইতিহাস চর্চা করতে হবে। অন্যথায় আমাদের সামনে এগিয়ে চলার পথ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন,ড.আবদুল মঈন খান,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ,মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান,পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক,অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড.মাহবুব উল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড.এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এর আগে দুপুর আড়াইটায় আলোচনা সভায় মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরেন বিশিষ্টজন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে আমরা লাখো প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আর ২০২৪-এ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়েছি। বিগত দিনে যারা প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিতারিত করেছেন, এমন প্রতিটি প্রাণেরই এক ধরনের আকাঙ্ক্ষা ছিল। একাত্তর থেকে ২৪ প্রতিটি শহীদের আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ। তাই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সহাবস্থানের বাংলাদেশ গড়তে চাই। তারেক রহমান বলেন,আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জনগণের জীবনমানের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষক ঋণ মওকুফ করেছে। অচিরেই বিতরণ করা শুরু হবে কৃষক কার্ড। তিনি দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
