বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়।
গত বছরের ২০ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ রায় দিয়েছিলেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা দুটি পৃথক সিভিল আপিল মঞ্জুর ও চারটি রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে সর্বসম্মত হয়ে এ রায় দেওয়া হয়।
৭৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই হবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। রায়ে আপিল বিভাগ বলেন, আগামী চতুর্দশ নির্বাচন থেকেই এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। তবে, বর্তমান সংসদ চাইলে এই ব্যবস্থার সংযোজন কিংবা বিয়োজন করতে পারবে বলে জানান আইনজীবীরা।
রায়ে আরও বলা হয়, গত ১৪ বছর আগে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পুরো রায়টি ত্রুটিপূর্ণ ও কলঙ্কিত। তাই রায়টি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হলো।
বিএনপি সরকারের সময় ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলোপ হয়।
২০১১ সালের ১০ মে প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে সংক্ষিপ্ত রায় দেন। পরবর্তীতে প্রায় ১৬ মাস পর ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত আদেশের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল এবং সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধানসমূহ বাদ দেওয়া হয়। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ ঘটে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০১১ সালের সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন হলে নতুন করে আপিল শুনানির সিদ্ধান্ত নেন সর্বোচ্চ আদালত। পরে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দেন সর্বোচ্চ আদালত।
