ঢাকাMonday , 2 November 2026
  • অন্যান্য

ঈশ্বরদীতে এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়,পাশের হার ৪০ শতাংশ

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি ।। ঈশ্বরদীতে চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে অধিকাংশ কলেজে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার আটটি কলেজের কোনোটিতেই পাসের হার ৬৩ শতাংশের বেশি নয়। এর মধ্যে তিনটি কলেজে পাসের হার ২০ শতাংশের নিচে। আট কলেজ মিলিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ২৩ জন শিক্ষার্থী। এমন ফলাফলে স্থানীয় শিক্ষাসংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী,ঈশ্বরদীর আটটি কলেজ থেকে এবার মোট ২ হাজার ৬২১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৪৮ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১ হাজার ৫৭৩ জন। আট কলেজে গড় পাসের হার প্রায় ৪০ শতাংশ।
ফলাফলে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ। এ কলেজ থেকে ৯৯২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬০৪ জন। পাসের হার ৬২ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২২ জন। তবে এ কলেজেও অকৃতকার্য হয়েছেন ৩৮৮ জন।
ঈশ্বরদী মহিলা কলেজ থেকে ৪২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৬০ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ২৬২ জন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এ কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফলাফল আরও হতাশাজনক। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৮৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ১৩৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৩৪৯ জন। পাসের হার ২৭ শতাংশ। মানবিক বিভাগের একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

পাকশী কলেজ থেকে ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১১ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৩৩ জন। পাসের হার ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ। মুলাডুলি কলেজে ১৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ২২ জন। ফেল করেছেন ১১১ জন। পাসের হার ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
বাঁশেরবাদা ডিগ্রি কলেজের ১৬৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩১ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১৩৭ জন। পাসের হার ১৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
দাশুড়িয়া ডিগ্রি কলেজে ৩২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৭০ জন। ফেল করেছেন ২৫৫ জন। পাসের হার ২১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
অন্যদিকে সলিমপুর ডিগ্রি কলেজের ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৬ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৩৮ জন। পাসের হার ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
আটটি কলেজের মধ্যে পাকশী, মুলাডুলি ও বাঁশেরবাদা ডিগ্রি কলেজে পাসের হার ২০ শতাংশের নিচে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই জিপিএ-৫ পায়নি কোনো শিক্ষার্থী।
এদিকে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলও সন্তোষজনক নয় বলে জানা গেছে। চলতি বছরের ২ জুলাই থেকে ঈশ্বরদীর পাঁচটি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কলেজে উপস্থিত না হওয়া এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে অমনোযোগিতাকে দায়ী করছেন কয়েকজন শিক্ষক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই-তিনজন কলেজ শিক্ষক বলেন, অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত কলেজে আসে না। কেউ কেউ কলেজে এলেও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে মনোযোগ না দিয়ে আড্ডা, ঘোরাফেরা ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সময় কাটায়। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষার মান ও পরীক্ষার ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা কঠিন হবে।