ঢাকাSunday , 11 October 2026
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রূপপুরে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি ।। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। এর ফলে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ধাপ অতিক্রম হলো।
৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে বায়রার চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মইনুল হোসেন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসানের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র হস্তান্তর করেন। এনপিসিবিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, এখন প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হবে। এই ধাপকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। এ সময় চুল্লির শক্তি খুব কম মাত্রায় রেখে এর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও ১৬ দশমিক দশমিক ৬৫ এমপিএ চাপে আরও পরীক্ষা করা হয় হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম পারমাণবিক বিক্রিয়াসহ প্রাথমিক পরীক্ষা শেষ করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। পরীক্ষার ফল ভালো হলে ধাপে ধাপে চুল্লির শক্তি বাড়ানো হবে।
এরপর ধীরে ধীরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের টারবাইন ও জেনারেটরের সঙ্গে চুল্লির সমন্বয় করা হবে। সব পরীক্ষা সফল হলে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ জন্য আরও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে।
এনপিসিবিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব পরীক্ষা ও অনুমোদন ঠিকভাবে সম্পন্ন হলে আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
প্রথম দিকে কম পরিমাণ বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া হবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে। গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পরও কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে।
রূপপুর প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয়ও প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।