ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে রহস্যজনক গুলিবর্ষণের ঘটনায় আধুনিক রাইফেলের ২৪ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি পিস্তলের খালি ম্যাগজিন উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের মাত্র তিনদিন আগে এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে । ২৪ রাউন্ড তাজা গুলি ও পিস্তলের ম্যাগজিন উদ্ধার, নির্বাচনের আগে আতঙ্ক
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পানি সরবরাহের জন্য নির্মাণাধীন ওয়াসার প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের আবাসিক কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গুলি ও অস্ত্রের আলামত উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওয়াসার সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক গোলাম কিবরিয়া শাকিলের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। শাকিল পাবনার চরতারাপুর ইউনিয়নের বাঙ্গিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবং প্রকল্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক মো.মামুন হোসেন জানান,“ম্যানেজার শাকিলের কাছে প্রায়ই বহিরাগত লোকজন আসতো। ঘটনার সময় দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে নিয়ে তিনি রুমে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে গুলির শব্দ পাই। পরে তারা অস্ত্রসহ দ্রুত বের হয়ে পালিয়ে যায়।”
ঘটনার পর পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে রুম থেকে আধুনিক রাইফেলের ২৪ রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি পিস্তলের ম্যাগজিন উদ্ধার করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাকশী ও রূপপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক গ্রুপিং,আধিপত্য বিস্তার,জমি দখল,চাঁদাবাজি ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের মহড়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। নির্বাচনের আগে এ ধরনের গুলিবর্ষণ পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো.মনিরুল ইসলাম বলেন,“উদ্ধারকৃত আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নয়। তারা পেশাদার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। ইয়াবা সেবনকালে অসাবধানতাবশত গুলি বিস্ফোরিত হতে পারে। আসামিদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে।”
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আরিফুর রহমান জানান,“ঘটনাটি প্রশাসন গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
নির্বাচনের প্রাক্কালে শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকায় এমন অস্ত্রের উপস্থিতি এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
