জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, দেশের কিছু রাজনৈতিক দলের ‘জমিদারি ভাব’ এখন খানিকটা কমলেও তারা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। অতীতে যারা পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তারা এখন আবার চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে বালি–পাথর খাওয়ার মতো অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। “এদের হাতে ক্ষমতা গেলে দেশের মাটিও রক্ষা পাবে না,” মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে ঈশ্বরদীর খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনালে পাবনা–৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, আগস্টের পরে ওই দলগুলোর আচরণে মনে হয়েছে—তারা যেন দেশের একচ্ছত্র মালিক। কিন্তু জনগণ চাঁদাবাজ, দখলবাজ, সন্ত্রাসীদের প্রত্যাখ্যান করেছে। “ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই তাদের পতন শুরু হয়ে গেছে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “সন্ত্রাসের পথ পরিত্যাগ করে ভালো পথে আসুন। জনগণের মনের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। প্রার্থীদের বহরে হামলা, নারীদের কোরআন কর্মসূচিতে হামলা—এসব বন্ধ করতে হবে।”
তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামী ছাত্রশিবির অতীতে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে এবং জনগণ মনে করে নিঃশব্দ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমেই এবার দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হবে।
ক্ষমতায় গেলে ‘রাজা নয়, জনগণের সেবক’ হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, দেশে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তুলে যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। নারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে দেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাঁচ বছরের মধ্যে উঁচু করা হবে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন কোনোভাবেই বিলম্ব করা চলবে না। গণভোটও যথাসময়ে হতে হবে। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হলে জনগণ বিভ্রান্ত হতে পারে—তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দেওয়া উচিত।”
ঈশ্বরদীর এক স্থানীয় নেতার নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ওই নেতা নাকি দাবি করেছেন—ধানের শীষ ছাড়া দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জিহ্বা কেটে নেবেন এবং ইমাম–মুয়াজ্জিনকে চাকরিচ্যুত করবেন। তিনি বলেন, “এসব কথার কোনো মূল্য নেই। আবু তালেব মন্ডলকে বিজয়ী করে জনগণই তাকে জবাব দেবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, “গুলি চালিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে দমানো যাবে না। গুলির ভয় আমরা করি না। হামলা-মামলা করে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ইসলামের পথ থেকে ফেরানো যাবে না। জামায়াতের নেতাকর্মীরা হামলা-মামলা-নির্যাতন ভয় পায় না।”
তিনি বলেন, “‘আমার নির্বাচনি প্রচারণার গাড়িতে গুলি করে আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিল ওরা। কিন্তু ওরা জানে না আবু তালেব মন্ডল ভয় পাই না। জামায়াতের কর্মীরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না।”
অধ্যাপক মন্ডল বলেন, “প্রহসনের বিচারে আমাদের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু আমরা দমে যাইনি।”
ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আমির ডক্টর নুরুজ্জামান প্রামানিকের সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. মঞ্জুরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, বগুড়া অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক ন নজরুল ইসলাম, পাবনা জেলা নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন, সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান, সহকারী সেক্রেটারি আবু সালেহ আব্দুল্লাহ, এস এম সোহেল, জেলা তালিমুল কোরআন সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম রাব্বানী খান জুবায়ের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার আমির মাওলানা মাহমুদুল হাসান, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সাইদুল ইসলাম, পৌর আমির মাওলানা গোলাম আজম খান, ছাত্রশিবিরের পাবনা জেলা সভাপতি মো. মুন্নাফ হোসেন প্রমুখ।
