ঢাকামঙ্গলবার , ১২ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নৌকা পেয়েও হারাচ্ছেন আওয়ামী লীগের ৪০ নেতা

জয়পত্র ডেস্কঃ
ডিসেম্বর ১২, ২০২৩ ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আওয়ামী লীগ তার শরিক ১৪ দল ও নির্বাচনমুখী দলগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে প্রায় ৪০টি আসনে নিজ দলের প্রার্থীদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা ভাবছে। ইতোমধ্যেই দলের একাধিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হওয়ার পর এসব আসনে ছাড় দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
এদিকে এ কারণে নৌকার মনোনীত প্রার্থী হয়েও নৌকা হারাতে বসেছেন আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে মনোনয়ন পাওয়া নেতারা। নৌকার কোন কোন প্রার্থীকে আসন ছাড় দিতে হবে, তা চূড়ান্ত করছে দলটি। এ সপ্তাহেই জানা যাবে নৌকা হারানো নেতাদের নাম- এমন তথ্যই জানিয়েছেন দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি না আসায় ভোটকে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করতে আসন ছাড় দিয়ে শরিক দল ও নির্বাচনমুখী দলগুলোকে উৎসাহ দেওয়ার এ পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের। তবে জাতীয় পার্টির সঙ্গেও একাধিক বৈঠক হয়েছে টানা ১৫ বছর ধরে সরকারে থাকা এ দলটির। কিন্তু জাতীয় পার্টি চায় নিশ্চিত জয়। আর আওয়ামী লীগ বলছে, তারা নিজ দলের প্রার্থী প্রত্যাহার করার এখতিয়ার রাখেন- তবে কোনো প্রার্থীকে নিশ্চিত জয় পাইয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। জাপা আর আওয়ামী লীগের এ বিষয়টি আলোচনার এ পর্যায়েই রয়েছে। সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বৈঠক করা হতে পারে বলে দল দুটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ঢাকা টাইমসকে বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বরের পরে সব জানা যাবে।
এদিকে দেশে নিবন্ধনকৃত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪৪টি। ইতোমধ্যে নির্বাচনে এসেছে আওয়ামী লীগসহ ২৯টি দল। বাকি দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ক্ষমতাসীনরা। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, নির্বাচনকে দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য করা। একই কারণে দলীয় বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও বিশেষ ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আগের নির্বাচনগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার কারণে বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে দলটি। বহিষ্কারও করা হয়েছে কয়েকজনকে। তবে দ্বাদশ নির্বাচনে সেই পথে হাঁটেনি আওয়ামী লীগ। তারা উৎসাহ দিয়েছেন নিজ দলের মনোনয়নবঞ্চিতদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে। একই সঙ্গে দিয়েছে প্রভাবহীন সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা।
এদিকে আসন ভাগাভাগির বিষয়ে শরিক ১৪ দলসহ নির্বাচনে আসা দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। কখনো প্রকাশ্যে, কখনো গোপনে বিশেষ বৈঠক করেও আসন ভাগাভাগির সমঝোতা হয়নি শরিকদের সঙ্গে। ঝুলে আছে জাতীয় পার্টির বিষয়টিও- যারা গত ১০ বছর ধরে সংসদের বিরোধী দল।
গত রবিবার রাতেও সংসদ ভবনে এক এমপির সভাকক্ষে শরিক জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সব ধোঁয়াশা কেটে যাবে। জানা গেছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া শরিক দলকে ৫-৭টির বেশি আসন ছাড়তে চাচ্ছে না আওয়ামী লীগ। তবে শরিকরা এর আগে আরও বেশি আসন পেয়ে আসছিলেন। ফলে আসন নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। আর নতুন দল তৃণমূল বিএনপিকে ২-৩টি আসন ও জাতীয় পার্টিকে ৩০-৩৫টি আসন ছাড় দেওয়া হতে পারে। কল্যাণ পার্টির বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমও আসন ছাড় পেতে পারেন বিএনপির জোট থেকে বের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণার প্রতিদানস্বরূপ। নানা সূত্রে এমন আভাসই পাওয়া যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রায় ৪০-৪২ জন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীকে নিষ্ক্রিয় করা হতে পারে। এসব আসন থেকে নৌকার প্রার্থী প্রত্যাহার করা হতে পারে। আর আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলের নেতারা নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন বলে ইতোমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ১৪ দলের সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এই কমিটিতে আমির হোসেন আমু ও ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আওয়ামী লীগের দুইজন কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন। এরপর ১৪ দলের মুখ্য সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর সঙ্গে বৈঠক করেন শরিক দলের নেতারা।
এ বিষয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল ইনু বলেন, আগামী নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোট একসঙ্গে নির্বাচন করবে। নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবে ১৪ দল।
আর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, জোট আছে, থাকবে। আসন নিয়ে আলোচনা করা হলেও কোন আসন কাকে দেওয়া হবে ঠিক হয়নি। আগের চেয়ে শরিকদের আসন সংখ্যা কম হতে পারে।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের শরিক দল ৩০টি আসন দাবি করেছে। এত আসন দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে শরিক দলগুলো যে নির্বাচনে পাস করার নিশ্চয়তা চাচ্ছে, সে বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। শরিকদের ৫ নেতাকে ৫টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যেই সম্মত হয়েছে আওয়ামী লীগ। এসব আসনের মধ্যে রাজশাহী-২ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, কুষ্টিয়া-২ আসনে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বরিশাল-২ অথবা বরিশাল-৩ আসনে রাশেদ খান মেনন, পিরোজপুর-২ আসনে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, চট্টগ্রাম-১ আসনে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী রয়েছেন।
ঢাকা-১৪ আসনে জেপি (মঞ্জু) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম। এছাড়াও ঢাকার বাইরে আরও দুজনের নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল বিএনপি থেকে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে তৈমূর আলম খন্দকার, শমসের মবিন চৌধুরীকে সিলেট-৬ আসনে বিশেষ ছাড় দেওয়া হতে পারে। তবে নারায়ণগঞ্জ-১ আসন নিয়ে এখনো জটিলতা কাটেনি। বর্তমান একাদশ সংসদে জাপার আসন রয়েছে মোট ২৬টি। এর মধ্যে ২২ জন সরাসরি নির্বাচিত আর ৪ জন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য।
সূত্র বলছে, জাপা ৫০টির বেশি আসনে ছাড় দাবি করলেও আওয়ামী লীগ প্রথমে ২০টি ও পরে প্রায় ৩০টি আসন ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। জাপার প্রস্তাব অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ যে কয়টি আসনে ছাড় দেবে, সেগুলোতে ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থী রাখা হবে না।
তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, শরিকদের লম্বা লিস্ট (আসনের তালিকা) ছোট করা হয়েছে। জনপ্রিয়তা দেখে আসন দেওয়া হয়েছে, কোথায় কে জিততে পারবে সেটা গুরুত্ব দিয়ে আসন ভাগাভাগি হচ্ছে। শরিকদের মধ্যে যারা নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে তাদের নাম ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে।

(