জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পাবনা (খ) সার্কেল পাবনার কার্যালয়, ঈশ্বরদী কর্তৃক দাদাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাঙ্গন কর্মসূচির আওতায় মাদক বিরোধী গণসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় ঈশ্বরদী উপজেলাধীন দাদাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে মাদক বিরোধী গণসচেতনতামূলক কার্যক্রমের শুভ সূচনা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তারের সভাপত্বিতে সহকারী শিক্ষক রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পাবনা (খ) সার্কেল পাবনার পরিদর্শক ছানোয়ার হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জিয়াউল হক, সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য সালেহা খাতুন।
এ সময় আমন্ত্রিত অতিথিরা তাদের মতামত ব্যক্ত করে বলেছে, তারা পরিবারে বাবা মায়ের কাছে মন খুলে গল্প করার সময় পায়না, শুধু পড়া আর পড়া এরকম চাপে তারা দিশেহারা। মাঝে মাঝে নিজেদের খুব একা লাগে। উঠতি বয়সের ছেলেদের মধ্যে দিনে দিনে মাদকের প্রতি আসক্তি বাড়ছে। কারণ, পরিবারে আনন্দঘন পরিবেশ নাই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন শিক্ষার্থীদের মনের ভেতর এক ধরণের হাহাকার কাজ করে।
এ কারণে অনেকসময়ই বিচারবিবেচনা ছাড়াই তারা যাকে কাছে পায় তাকেই বন্ধু ভেবে মিশতে শুরু করে। তাই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আমাদের দরকার, বিদ্যালয়ে পড়ালেখার সাথে প্রতিযোগিতামূলক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। প্রধান অতিথি পাবনা (খ) সার্কেল পাবনার পরিদর্শক ছানোয়ার হোসেন এ সময় শিক্ষার্থীদের জানান মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে মানুষ অস্বাভাবিক আচরণ করে, খিটখিটে মেজাজ, আক্রমনাত্মক মানসিকতা সম্পন্ন হয়।
সে কারণে মাদকসেবনকারীকে সাধারণ মানুষ ভালোবাসতে পারে না। এছাড়াও মাদক সেবন করতে শুরু করলে অকারণে মিথ্যা বলা, বানিয়ে গল্প বলা, অমনযোগী ও ছটফটে প্রবণতা দেখা যায়। আর মাদকের দরোজা হলো সিগারেট। সিগারেটের মাধ্যমেই অপরাপর মাদকদ্রব্য গ্রহণের দরোজা খোলে। সুতরাং পরিবারে, সমাজে এবং বিদ্যালয়ে সকলের আদর পেতে চাইলে সিগারেট এবং সকল প্রকার মাদকদ্রব্য থেকে দুরে থাকতে হবে। অতঃপর দশম শ্রেণী ও ২০২২ সালের পরীক্ষার্থীদের মাদক বিরোধী শপথ পাঠ শেষে শুভেচ্ছা পুরস্কার দেওয়া হয়।
