ঢাকাবুধবার , ২৩ মার্চ ২০২২
  • অন্যান্য

রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উচ্চগতির এক্সটার্নাল টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ২৩, ২০২২ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মানাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অত্যাধুনিক ও উচ্চগতির এক্সটার্নাল টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২২ মার্চ সকাল ১০টায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৩৭৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)।

‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য এক্সটার্নাল টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন’ শীর্ষক অনুমোদিত প্রকল্পটি অক্টোবর ২০২১ সাল থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর রূপপুর, ঢাকা এবং বাংলাদেশের উত্তর ও দণিাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে বাস্তবায়ন করা হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অত্যাধুনিক ও উচ্চগতির ডেডিকেটেড এক্সটার্নাল টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অফ সাইট ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আধুনিক টেলিফোন দ্রতগতির ইন্টারনেট সেবা দেওয়া, জাতীয় পারমাণবিক ও তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ক ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- ৩৭০ কিলোমিটার রাস্তা কাটার তিপূরণ, আট বছরের অগ্রিম পরিচালনা ও রণাবেণ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, অপটিক্যাল ফাইবার লিজ (রেলওয়ে, পিজিসিবি, বিটিসিএল, স্যাটেলাইট চ্যানেল লিজ) সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, স্থানীয় ও বৈদেশিক পরামর্শক সেবা ক্রয়, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম ক্রয়, বৈদেশিক ও স্থানীয় প্রশিণ এবং ৮টি মোটরযান ভাড়া ও ৩টি মোটরযান ক্রয় করা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড.শৌকত আকবর  বলেন, থ্রিজি টেলিকানেকটিভিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে টেলিকমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে দেশে নতুন মাত্রার উন্মোচন হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় নিরবচ্ছিন্ন ও সিকিউরড কমিউনিকেশন দরকার। যেকোন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক পরিচালনকালীন সময়ে জরুরী অবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশী ও বিদেশী ষ্টেক হোল্ডারদের সাথে যোগাযোগ রাখা যায়। এজন্যই এই অত্যাধুনিক কমিউনিকেশন বা রিটান্ডেড কমিউনিকেশন সিষ্টেম চালু হচ্ছে। সেখানে ডেডিকেটেড

টেলিকমিউনিকেশন, রেডিও লিংক, স্যাটেলাইট লিংক ও মোবাইল লিংক সংযুক্ত থাকবে। এছাড়াও রূপপুর প্রকল্প ঘিরে  পার্শ্ববর্তী ১৯টি জেলায় অর্থনৈতিক কমিউনিকেশন স্থাপন করা হবে। এটি একটি আর্ন্তজাতিক প্রাকটিস জানিয়ে তিনি বলেন, এরমধ্য দিয়ে পিজিসিবিএল আধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার সক্ষমতা অর্জন করবে। একই সাথে ছবি, তথ্য এবং বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানো যাবে।

রূপপুর থেকে একটি ডেডিকেটেড লাইন হবে, যার মধ্যে উন্নত বিশ্বের  আধুনিক টেলিযোগাযোগের সকল ক্যাপাসিটি থাকবে। এরমধ্য দিয়ে নতুন জেনারেশনের টেলিকমিউনিকেশন থ্রিজি কানেকটিভিটির দ্বার উন্মোচিত হবে। এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি প্রয়াস ও বিটিসিএল এর স্বপ্ন জানিয়ে ড. শৌকত বলেন, যা প্রথম বাস্তবায়ন হচ্ছে ঈশ্বরদী রূপপুরে।

পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম বলেন, প্রকল্পটি মূল প্রকল্পের সহযোগী প্রকল্প হিসেবে দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। যার মাধ্যমে রূপপুরের সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর নিরবিচ্ছন্ন যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।