ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  • অন্যান্য

রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে তিন বছরে ১৭ রুশ নাগরিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২ ১:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় নির্মানাধীন রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ১৭ জন রুশ (রাশিয়ান) নাগরিক গত তিন বছরে মারা গেছেন। ২০১৯ সালের ৬ এপ্র্রিল হতে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে গত ২৬ জানুয়ারী হতে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২ দিনে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে। ৫ জনের মৃত্যু পেছনে অস্বাভাবিক কোন ঘটনা নেই বলে দাবি করেছেন পুলিশ। পুলিশের দাবি, মৃত্যুবরণকারীরা বেশীর ভাগই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এছাড়াও হঠাৎ খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন, নিঃসঙ্গতা ও চলতি করোনাকালীন সময়ে বাইরে বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি তারা মানসিকভাবে অস্বস্তিবোধ করছেন।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান আসাদ সাম্প্রতিক সময়ে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনাকে কাকতালীয় বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ম্যাক্সিম শাকিরভ রাতে তার ফাটে ঘুমিয়েছিলো সকালে আর উঠেনি। ২৬ জানুয়ারী মৃতদেহ উদ্ধার করে জানা যায়, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ২৮ জানুয়ারী আলেক্সেই বারচেনকা অসুস্থবোধ করলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। ৫ জানুয়ারী ২ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে ভিয়াচেস্লাভ তলমাচেভ পা পিচলে ১৪তলা ভবন থেকে নীচে পড়ে যায়। এটি নিছক দুর্ঘটনা বলে তিনি জানান। আরেকজন পাভেল চুকিন পরিবারসহ বাস করতেন। দীর্ঘদিন তার হার্টের সমস্যা ছিলো। সর্বশেষ আলেক্সান্দার ভারোতনিকভ মস্তিস্কে রক্তক্ষরণে মারা যান।

ওসি আসাদ আরো বলেন, পরিবার-পরিজন ছেড়ে এসব বিদেশীরা নিঃসঙ্গভাবে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এদের চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আগে বাইরে বের হলেও এখন হাট-বাজারেও যেতে দেয়া হয় না।

ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র ইসাহক আলী মালিথা বলেন, রাশিয়ানরা শীতপ্রধান দেশের মানুষ। জলবায়ুর তারতম্যের সাথে খাদ্যভ্যাসেরও বিষয়ও রয়েছে। শীতপ্রধান দেশে যে ধরণের খাদ্য গ্রহন করা হয়, সেধরণের খাবার এখানে গ্রহন করলে শারিরীক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চলাফেরায় বিধিনিষেধের কারণে এখন রাশিয়ানরা গৃহবন্দির জীবন-যাপন করছে। আগে তারা রিসোর্টে ও মার্কেটে কেনাকেটার জন্য আসতেন এবং বেড়ানোর জন্য তাদের অবাধ যাতায়াত থাকলেও এখন বিধিনিষেধ আরোপ করায় একেবারেই নিঃসঙ্গ জীবন-যাপন করতে হচ্ছে।