ঢাকারবিবার , ৯ জানুয়ারি ২০২২
  • অন্যান্য

মিনিকেট চালের নামে প্রতারণা করছে মিলাররা:প্রতিমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক
জানুয়ারি ৯, ২০২২ ৭:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেছেন, চাল ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে আকর্ষণীয় করে মিল মালিকরা প্রতারণা করছেন। পলিশিং করে মিলগুলো চালকে চিকন করে। এতে অনেক পুষ্টিগুণ চলে যায়। একটি অগ্রসরমান অর্থনীতিতে এমন প্রতারণা মেনে নেওয়া যায় না। এটা আইন করে বন্ধ করা উচিত। কোন জাতের চাল এ বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে মিলগুলো নিজেদের মতো ব্র্যান্ড দাঁড় করিয়ে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
‘বায়োফর্টিফায়েড জিঙ্কসমৃদ্ধ ব্রি ধানের বাজার সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর একটি হোটেলে বণিক বার্তা শনিবার এটি আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক কৃষি সচিব ও কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নাসিরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন গেইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার, সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন বিজনেস ইন্টেলিজেন্সের প্রধান নির্বাহী শাকিব কোরেশী।
ড. শামসুল আলম বলেন, পুষ্টির ঘাটতি রোধে সরকারের বড় বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে। শুধু চালের মাধ্যমে জিঙ্ক সরবরাহ করা যাবে এমন নয়। তবে দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য চাল হওয়ায়, এর মাধ্যমেই জিঙ্ক সরবরাহ করা সহজ। চালের মাধ্যমে এ উপাদানের সরবরাহ যথাযথ। আইন করে যেমন লবণে আয়োডিন এবং তেলে ভিটামিন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে তেমনি চালের ক্ষেত্রেও আইন করা দরকার। কেউ প্রতারণা করে চালের যেমন ইচ্ছা তেমন রূপ দেবে এমনটি হতে পারে না। নাসিরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভুটানসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ জিঙ্গ সমৃদ্ধ চাল নিতে চায়। কিন্তু আমরা সেটি দিতে পারছি না। তাই ধানের জাত উদ্ভাবনের পর জনপ্রিয় করতে ১৫-১৬ বছর সময় লাগে সেটি কমিয়ে আনতে হবে। আবার ধানের নাম সংখ্যাগতভাবে না দিয়ে অন্য কোনোভাবে দিয়ে জনপ্রিয় করা য়ায় কিনা সেটি ভাবতে হবে। বিশেষ করে ব্রি-ধান৭৪ ও ৮৪ জাত অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ। এই জাত জিঙ্গ চাল নামে জনপ্রিয় করা যায় কিনা দেখা যেতে পারে। কোনো কৃষক যদি পুষ্টিসমৃদ্ধ ধানের আবাদ করতে চায় তাহলে বিনা জামানতে কৃষক ঋণ পাবে। ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত এই ঋণ কৃষকরা পাবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর বলেন, দেশের সব ধানের জাতেই কমবেশি জিঙ্গ রয়েছে। তবে ব্রি ধান৭৪ ও ৮৪ জাত দুটি জনপ্রিয় করা সম্ভব হলে দেশের মানুষের জিঙ্গের ঘাটতি অনেকাংশেই পূরণ করা সম্ভব। এজন্য একটি অ্যাকশন প্লান ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে অগ্রসর হতে হবে।