ঢাকামঙ্গলবার , ১০ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাবেক এমপি সিরাজ সরদার সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ যে মন্তব্য করেছেন তার প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

জয়পত্র ডেস্কঃ
মার্চ ১০, ২০২৬ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল এলাকায় তার নিজ বাসভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনে পাবনা জেলা বিএনপির সম্মানিত আহ্বায়ক জনাব হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন—তার প্রতিবাদ জানাতে ও প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতেই মোঃ মোখলেসুর রহমান বাবলু সাবেক সভাপতি ঈশ্বরদী পৌর বিএনপি,সাবেক মেয়র ঈশ্বরদী পৌরসভা, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গত ০৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ,শনিবার দুপুরে ঈশ্বরদী পোষ্টঅফিস মোড়ে হাবিবুর রহমান হাবিবের নির্বাচনী অফিসে সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদারের বিরুদ্ধে পাল্টা সঙবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
এই সংবাদ সম্মেলনে সাবেক মেয়র বাবলু লিখিত বক্তব্যে বলেন, শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক,বীর উত্তম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। একই সাথে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি তার সুযোগ্য সহধর্মিণী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে ।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক,বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা,পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক,হাবিবুর রহমান হাবিব একজন সৎ, নির্ভীক, চরিত্রবান, সাহসী বিএনপির ত্যাগী নেতা। বিগত ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন,রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম,বারবার হামলা মামলা জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন। এছাড়াও প্রতিনিয়ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিপক্ষে টিভি টকশোতে জিয়া পরিবারের পক্ষে কথা বলায় জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন। আন্দোলন সংগ্রামে স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পেটুয়া বাহিনী দ্বারা ঈশ্বরদী ও পাবনার রাজপথে বারবার রক্তাক্ত হয়েছেন। জনাব হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হওয়ার পর থেকে পাবনা জেলা বিএনপিকে তিনি তার মেধা এবং শ্রম দিয়ে ঐক্যবদ্ধ করতে সফল হয়েছেন যা ইতিপূর্বে কেউ পারেনি। হাবিবুর রহমান হাবিব পাবনা জেলার উপজেলা গুলোতে শিক্ষিত,সৎ ও যোগ্য নেতা কর্মীদের দিয়ে বিএনপির কমিটি উপহার দিয়েছেন।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,আপনারা অবগত আছেন দীর্ঘ ১৭ বছর এই সিরাজুল ইসলাম সরদার আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। ১৭ বছর গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ঘোষিত কোন কর্মসূচিতে সে ও তার উত্তরসুরীরা অংশগ্রহণ করেন নাই। সে ও তার সাথে যারা রাজনীতি করে তাদের নামে আওয়ামী লীগ সরকার ও প্রশাসন একটিও মামলা করে নাই। সে কোনো হামলা মামলার, জেল-জুলুম, নির্যাতনের শিকার হয়নি দীর্ঘ ১৭ বছর ।
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও ভূমি মন্ত্রী জনাব শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর সাথে আঁতাত করে চলেছেন। বাঘইল স্কুল এন্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আপনি থাকা অবস্থায় সাবেক এমপি শামসুর রহমানের শরীফ ডিলু ভূমি মন্ত্রী হওয়ায় তাকে খুশি করতে প্রধান অতিথি করে লক্ষাধিক টাকার আতশবাজি ফুটিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। আপনি ভুলে গেলেও আপনার এলাকার সাধারণ বিএনপির নেতা কর্মী ও ঈশ্বরদী বাসী মনে রেখেছে।
আপনারা জানেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবদন্তি ছাত্র নেতা, ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, দাশুড়িয়া ইউনিয়নের দুইবার নির্বাচিত সফল চেয়ারম্যান জনাব শরিফুল ইসলাম তুহিনের জনপ্রিয়তা দেখে সাবেক এমপি জনাব সিরাজুল ইসলাম সরদার ষড়যন্ত্র করে ও নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে খালেক মেম্বার হত্যা মামলার আসামি করে এই জনপ্রিয় চেয়ারম্যানকে দীর্ঘ ২২ টি বছর অন্যায়ভাবে জেল খাটিয়েছেন। দুইটা পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছেন যা ঈশ্বরদী বাসির সবার জানা। তৎকালীন ১৯৯৪ সালে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ঈশ্বরদী আগমনকে কেন্দ্র উদ্ভূত ঘটনা পরিপ্রেক্ষিতে ঈশ্বরদী জিআরপি থানায় যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল তা সেই সময় চূড়ান্ত নিষ্পতি প্রতিবেদন দাখিল করলেও সাবেক সংসদ থাকার কারণে তিনি প্রভাব খাটিয়ে সেই মামলা নিষ্পতি করতে দেন নাই। পরবর্তীতে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও ভূমি মন্ত্রী জনাব শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর সাথে আঁতাত করে তিনি তার অপছন্দের ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির ৫২ জন নিরীহ নেতা-কর্মীকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করতে সহযোগিতা করেছেন এবং এই মামলায় তার পরিবারের কেউ আসামী হয়নি। এর ফলে অনেক নিরপরাধ নেতাকর্মী মৃত্যুদণ্ড,যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ বছর পর্যন্ত সাজা ভোগ করার মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ধরে রাখার স্বার্থে তিনি এমন জঘন্য ও অমানবিক কর্মকাণ্ড করেছেন তা সবাই জানে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো,যেসব নেতাকর্মী এই মামলায় কারাগারে গিয়েছেন, তাদের কেউই তার পক্ষ থেকে কোনো সহানুভূতি বা সহযোগিতা পাননি। এমনকি দীর্ঘদিন কারাভোগ করার সময় তিনি কখনো তাদের পরিবারগুলোর খোঁজখবরও নেননি।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
আপনারা জানেন,২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীক,শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ছবি পুড়িয়েছেন। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি ও তার সাথে যারা রাজনীতি করে তাদের সাথে নিয়ে ঝাড়ু মিছিল করেছেন। এছাড়াও পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের উপর নৃশংস হামলার পরিকল্পনাও করেন তিনি । তার সিদ্ধান্তেই সেইদিন হাবিবুর রহমান হাবিবের উপরে হামলা হয়েছিল,উদ্দেশ্য ছিল হাবিবুর রহমান হাবিব মারা গেলে তিনিই দলীয় প্রার্র্থী হয়ে নির্বাচন করবেন ।
২০২০ সালে উপ-নির্বাচনে স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের এমপি নুরুজ্জামান বিশ্বাসের বাসায় গিয়ে ফুল দিয়ে তাকে বিজয়ী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। যাতে তার রেলওয়ে ও ঈশ্বরদী ইপিজেড এর ব্যবসা বাণিজ্য ঠিক থাকে এবং যারা তার সাথে রাজনীতি করে তারা নিরাপদে থাকতে পারে।
২০২৪ সালে স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট হাসিনার পাতানো নির্বাচনকে বৈধতা দিতে আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী জনাব গালিবুর রহমান শরীফের সাথে আঁতাত করে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা করিয়ে পুলিশ দিয়ে বাড়ি ছাড়া করিয়েছেন। বিএনপির সাধারণ কর্মীদের নামে মামলা হয় আর আপনার নামে হয় না। যেখানে বিএনপির সাধারণ কর্মীরা বাড়ি থাকতে পারে না, সেখানে আপরি বহাল তবিয়তে রিক্সায় বসে পায়ের ওপর পা তুলে ঘুরে বেড়ান যা ঈশ্বরদীবাসী সবাই জানে।
এছাড়াও ব্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি আপনার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার অভিনয় করে ধানের শীষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী কারিয়া পিন্টুকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। এমনকি আপনার নিজ ভাতিজা পাকশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জাকিউল ইসলাম তপন সরদার,আপনার একান্ত সহচর,সাবেক জেলা বিএনপির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক রশিদ সরদার, ঈশ্বরদী উপজেল বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ন কবির দুলাল সরদারকে স্বতন্ত্র প্রাধীর নির্বাচন করতে উৎসাহিত করেছেন। যখন বুঝতে পেরেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু হেরে যাচ্ছে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে ঠিক তখন ষড়যন্ত্র করে ধানের শীষকে হারানোর লক্ষ্য নিয়ে আপনি নিজে দাঁড়িপাল্লার ভোট করেছেন,শুধু তাই নয়,আপনার দুই কন্যাকে দিয়েও দাড়িপাল্লার ভোট করিয়েছেন। এছাড়াও নিজ নেতা কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন জামায়াত ইসলামের দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে। আপনার ভোটকেন্দ্র বাঘইল স্কুল এন্ড কলেজ সেই ভোট কেন্দ্রে ধানের শীষকে হারিয়ে দাঁড়ি পাল্লাকে বিজয়ী করেছেন।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
পাবনা জেলা বিএনপি যদি অতীত থেকে আমরা শিক্ষা না নেই তাহলে আমাদের সাংগঠনিক অবস্থা খুবই ভয়াবহ হবে। একজন দালাল সিরাজুল ইসলাম সরদার যিনি কিনা বিগত আন্দোলন সংগ্রামে কোনদিন মাঠে ছিলেন না তিনি আবার নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন। রাতের আঁধারে আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত এমপির সাথে গোপন আঁতাত আর দিনে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চললেও তার আসল রূপ এখন সবার সামনে পরিষ্কার।
ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার মাটি ও মানুষের নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবের গণজোয়ার দেখে ভীত হয়ে এই বিট্রেয়ার চক্রটি গত নির্বাচনে সুপরিকল্পিতভাবে ধানের শীষের প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছে। শহীদ জিয়ার আদর্শ আর ধানের শীষের সম্মান রক্ষায় এই বেইমান, ষড়যন্ত্রকারী এবং পদলেহী সিরাজুল ইসলাম সরদারসহ সকল কুচক্রী মহলকে অনতিবিলম্বে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি। দলে কোনো বেইমানের জায়গা নেই, মীরজাফর হঠাও বিএনপি বাঁচাও!