ঢাকাবুধবার , ৪ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

ইরানকে কঠিন জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি উপসাগরীয় দেশগুলোর

জয়পত্র ডেস্কঃ
মার্চ ৪, ২০২৬ ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ইরানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে।
কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো মনে করছে, ইরান তাদের সার্বভৌমত্বের ‘চরম সীমা’ বা রেড লাইন অতিক্রম করেছে। কাতার সরকারের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারী এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছেন,তাদের আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ক্রমাগত আঘাত হানা হচ্ছে,যা আর বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
ইরান মূলত ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে তাদের প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর শত শত মিসাইল ও ড্রোন ছুড়ছে। তেহরানের লক্ষ্য হলো—এ অঞ্চলের পর্যটন, বাণিজ্য এবং জ্বালানি খাতের যে নিরাপদ ভাবমূর্তি রয়েছে, তা ধূলিসাৎ করে দেওয়া। দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দর এবং বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইরান ধারণা করছে,আরব দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ালে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করবে, কিন্তু এই কৌশল উল্টো আরব দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের আরও কাছাকাছি ঠেলে দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দেয়নি। তবে পরিস্থিতি যেভাবে অবনতি হচ্ছে, তাতে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। গাজা এবং লেবাননে ইসরাইলি অভিযানের কারণে আরব দেশগুলোর সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক এমনিতেই তলানিতে ঠেকেছে, কিন্তু ইরানের এই ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ হামলা জিসিসি ভুক্ত ছয়টি দেশকে এক অভিন্ন অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ইরানকে কাণ্ডজ্ঞান ফিরে পাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই যুদ্ধ প্রতিবেশীদের সাথে নয়। তিনি সতর্ক করেছেন যে ইরান যদি দায়িত্বশীল আচরণ না করে তবে তাদের ওপর আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা এবং সামরিক উত্তেজনার বৃত্ত আরও বড় হবে। বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতৃত্ব তাদের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের সুরক্ষায় পাল্টা জবাব দেওয়াসহ সব ধরনের বিকল্প পথ খোলা রেখেছে।
সূত্র: বিবিস