ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
২৯৯টি আসনের বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ২১৩টি আসনে জয় পেয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৭১টি আসনে জয়লাভ করেছে।
এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্য দলের প্রার্থীরা ১১টি আসনে জয় পেয়েছেন।
ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে, ঢাকা-১৫ আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সর্বশেষ ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলে সেই মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে।
এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত দলটিকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যান খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৯৬ সালেও স্বল্প সময়ের জন্য সরকার গঠন করেছিল বিএনপি।
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানই হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী- এ ঘোষণা আগেই দিয়েছিল বিএনপি। এবারই তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬-উভয় আসনেই জয়লাভ করেন।
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে গত বছরের ২৫ নভেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ২৭ নভেম্বর তিনি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যাত্রা শুরু।
২০০২ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
