ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৭ মার্চ ২০২৫
  • অন্যান্য

একাত্তরের বিরোধীরা এখন বড় গলায় কথা বলছে : ফখরুল

জয়পত্র ডেস্কঃ
মার্চ ২৭, ২০২৫ ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

যেসব দল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে হত্যাযজ্ঞে সহযোগিতা করেছিল তারা এখন গলা উঁচিয়ে কথা বলার চেষ্টা করছে যেন ওই সময় (৭১ সালে) কিছু হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কিছু কিছু দল বোঝানোর চেষ্টা করছেন, ১৯৭১ (মুক্তিযুদ্ধ) কোনো ঘটনাই ছিল না। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইবি) ভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ২৫ মার্চের এই কালো দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এই দেশের মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। হত্যা করেছে লাখো নিরীহ মানুষ। কিন্তু সেই গণহত্যার জন্য পাকিস্তান এখনো ক্ষমা চায়নি। এ কথাগুলো এখন কেন বলছি, কারণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, কিছু কিছু মানুষ, একটি গোষ্ঠী ও কিছু কিছু দল বোঝানোর চেষ্টা করছেন, ১৯৭১ (মুক্তিযুদ্ধ) কোনো ঘটনাই ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের যে আন্দোলন, লাখ লাখ মানুষের যে আত্মত্যাগ, ৯ মাস ধরে বাড়িঘর ছেড়ে কোটি কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল সেই অবস্থা যেন আমরা ভুলে যাচ্ছি। যারা সরাসরি সহযোগিতা করেছে, সরাসরি হত্যাযজ্ঞে সহযোগিতা করেছে তারা এখন গলা উঁচিয়ে-ফুলিয়ে কথা বলছে। কারো নাম বলতে চাই না, তিক্ততাও সৃষ্টি করতে চাই না।
তিনি বলেন, ইতিহাস তো ইতিহাসই, কেউ বিকৃত করতে পারবে না। সেই জন্য ২৫ মার্চের রাত্রি অত্যন্ত কলঙ্ক ও দুঃখময় রাত্রি। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী না, তারা গণতন্ত্র ধ্বংসকারী। শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছে, এটাই এদের চরিত্র বলে উল্লেখ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ওরা দেখে, জনগণ যখন ক্ষেপে উঠে, তখন ওরা এভাবে কর্মীদের অরক্ষিত রেখে পালিয়ে যায়। এবার তাই করেছে, জনতার বিক্ষোভে ভারতে পালিয়ে গেছে। বাংলাদেশের মহীয়সী নারী বেগম খালেদা প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে ৯ মাস বন্দি ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কার প্রথম শুরু হয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত দিয়ে, পরে করেছেন খালেদা জিয়া। দেশের মৌলিক সংস্কার কিন্তু বিএনপির হাত দিয়েই। এখন ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের প্রস্তাব দিয়েছে তো বিএনপি, ১৬ সালে বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০৩০ ভিশন দিয়েছে। সংস্কার কোনো নতুন বিষয় নয়। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের পাহাড় এনেছে। আমরা সংস্কারের প্রস্তাবনায় মতামত দিয়েছি, পক্ষে-বিপক্ষে। আমরা বলেছি, নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এটি নিয়ে আজ ষড়যন্ত্র সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। যেটা আমরা মেনে নেব না। কারণ সেনাবাহিনী দুঃসময়ে আমাদের পাশে দাঁড়ায়। দেশের মানুষের জান-মাল রক্ষা করে। তিনি আরো বলেন, হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ভিত্তি তো বিএনপি রচনা করেছে। হঠাৎ করেই একটা বিপ্লব হয়নি, বিএনপির নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও রক্তে এ পটভূমি রচিত হয়েছে। আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু প্রমুখ।