গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনকে দমন করতে ছাত্রলীগ নামধারী হেলমেটবাহিনীকে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে। আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে এরা রক্তাক্ত করেছে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রক্তে। এই ছাত্রলীগ পুলিশ একজোট হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়ে তাদেরকে আক্রমণ করেছে; পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে, মারাত্মক জখম করেছে। হামলায় আহত হন শতাধিক শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব উমামা ফাতিমা, সদস্য সিমা আখতার, রেদওয়ানুল ইসলাম রনি, সায়মাসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা এখন ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘গতকাল সরকার প্রধান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন তা অযৌক্তিক এবং অনভিপ্রেত। প্রধানমন্ত্রীর পদে বসে থেকে দেশের বিপুল অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে, এমনকি শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়েও অবমাননামূলক উক্তি চরম নিন্দনীয়। দেশে দুঃশাসন, অর্থনৈতিক দুরবস্থায় নাকাল পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ সরকার তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে নানান খেলায় মত্ত। এমনকি মুক্তিযুদ্ধকে বাজি ধরে, তাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে খোদ মুক্তিযুদ্ধকেই বিতর্কিত করার নোংরা খেলায় মেতেছে তারা।’
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘এই সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে যেমন ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার পাঁয়তারা করছে, তেমনি সেটা জাতীয় ঐক্য ধ্বংস করে দেশের গণমানুষকে বিভক্ত করে ফেলছে। কাজেই সরকারের সকল ষড়যন্ত্রকে বাংলাদেশের মানুষকে রুখে দিতে হবে।’
দেশবাসীকে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র বিষয়ে সজাগ থাকার আহবান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনে সমর্থন দানে আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।
