প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের সরকারি সফরে চীন পৌঁছেছেন। গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে চীনের ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি অবতরণ করে। সেখানে দেশটির ভাইস মিনিস্টার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পরে চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসিমউদ্দিন ও তার স্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এর আগে ফ্লাইটটি দুপুর ১১টা ৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়।
এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো উন্নত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবশেষ ২০১৯ সালের জুলাইয়ে বেইজিং সফর করেছিলেন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সময়ে চীন সফর করেছেন। আর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৬ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে এসেছিলেন। সে সময় উভয় দেশ কৌশলগত অংশীদারত্বে পৌঁছেছিল। দুই দেশ আগামী বছর প্রথম কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে।
এ বিষয়ে সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিঙ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফরের মধ্য দিয়ে চীনের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগসহ সহযোগিতামূলক সম্পর্ক নিয়ে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। এ সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হবে। এরই মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে ভালো উদাহরণ সৃষ্টি করতে পেরেছে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
মাও নিঙ বলেন, এ সফরে বাংলাদেশ ও চীন নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কীভাবে কাজ করবে তা নির্ধারণ করা হবে।
এ বিষয়ে গত রবিবার বাংলাদশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, এ সফরে দেশের অর্থনৈতিক, ব্যাংকিং, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল ইকোনমি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়ানোসহ প্রভৃতি বিষয়ে ২০ থেকে ২২টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ষষ্ঠ ও নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ, বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানি ও দুদেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের সমঝোতা স্মারকগুলো সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দুই দেশের বেশ কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধনেরও ঘোষণা করা হবে।
আজ মঙ্গলবার সকালে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিন লিকুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সাংগ্রিলা সার্কেলে অনুষ্ঠেয় ‘সামিট অন ট্রেড, বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অপরচুনিটিজ বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড চায়না’ শীর্ষক সম্মেলনে অংশ নেবেন।
বাংলাদেশের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল সম্মেলনে যোগ দেবে। দুপুরে প্রধানমন্ত্রী চাইনিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসাল্টেটিভ কনফারেন্সের (সিপিপিসিসি) ১৪তম জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াং হুনিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিকালে ঐতিহ্যবাহী তিয়েনআনমেন স্কয়ারে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন। রাতে তিনি বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেবেন।
আগামীকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সাক্ষাতের আগে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। একই স্থানে প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রিমিয়ার অব দ্য স্টেট কাউন্সিল দুদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলসহ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন।
এরপর দুদেশের সরকারপ্রধানের উপস্থিতিতে প্রায় ২০ থেকে ২২টির মতো সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হবে এবং কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধনের ঘোষণা হবে। সমঝোতা স্মারকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চীনের রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষের সমঝোতা; অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতি সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা; বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সহযোগিতা; নবম চায়না ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ নিয়ে সমঝোতা; মেডিকেল ও পাবলিক হেলথ বিষয়ে সমঝোতা; রেডিও ও টেলিভিশন-সংক্রান্ত সহযোগিতা সমঝোতা। একই দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। ১১ জুলাই দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
