ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ॥ ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া তেতুলতলায় নিখোঁজের পরেরদিন জিহাদ হোসেন (৯) নামে কেজি স্কুলের ৩য় শ্রেনীর এক ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ।
৬ জুলাই শনিবার ভোরে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের মনসিদপুর তেঁতুলতলায় পরিত্যক্ত খাদ্য গুদামের ঝোপের মধ্যে বিবস্ত্র অবস্থায় প্লাষ্টিকের পাটিতে মুড়ানো তার মরদেহ পাওয়া যায় । নিহত শিশু জিহাদ হোসেন মুনসিদপুর গ্রামের প্রবাসী হাসেম আলীর ছেলে ।
আজ ৭ জুলাই রবিবার দুপুরে ঈশ্বরদী থানায় এ সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংকালে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান,গ্রেফতার কৃত আসামী আসিফ (৩২) পিতা আলী হোসেন দজিং,সাং-মানিকৈড় (পাকুড়িয়া),ঈশ্বরদী,পাবনা এর দেওয়া জবানবন্দিতে জানা যায়,জিহাদ ৫ জুলাই শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে তেঁতুলতলা পরিত্যক্ত খাদ্য গুদামের কাছে সহপাঠীদের সঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজে খেলাধুলা করছিল, কিছুক্ষন পরে তার ভাই শুভ তাকে দ্রুত বাড়ি চলে যেতে বলে অন্য এক বাড়িতে যায়। তার ভাই বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে খুঁজতে থাকে এবং মসজিদের মাইকে হারানোর খবর প্রচার করে এবং জিহাদের মা হাসিনা বেগম ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে একটি জিডি করে।
আসিফের স্বীকারোক্তিতে আরো জানা যায়,জিহাদ যখন বাড়ি যাচ্ছিল তখন পরিত্যক্ষ গোডাউনের ছোপে বসে ইয়াবা খোর ও ও বিকৃত যৌন মানষিকতার অপরাধী ট্রলি ড্রাইভার আসিফ হোসেন (৩২) ইয়াবা সেবন করছিল। এসময় জিহাদ আম খেতে খেতে বাড়ি ফিরছিল। তাকে দেখে ভয় পেয়ে থমকে দাঁড়ায় জিহাদ । তখন আষিফ বলে এই ছেলে ভয় পাচ্ছ কেন এখানে আস। জিহাদ সেখাসে খেলে আসিফ তাকে জড়িয়ে ধরে তার জামা প্যান্ট খুলে বিকৃত যৌনক্ষুধা মেটানোর জন্য বলাৎকার করার চেষ্টা করে। জিহাদ চিৎকার দিলে তাকে সজোরে গলা চেপে ধরে, এসময় জিহাদ ওয়ালের সাথে মাথা ঝাপটাতে থাকে এবং শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায়। জিহাদ মারা গেছে নিশ্চিত হয়ে আসিফ জানালা দিয়ে তার জামাকাপড় ফেলে দিয়ে সেখানে পড়ে থাকা পুরানো প্লাষ্টিকের পাটিতে মুড়িয়ে জিহাদের মরদেহ গোডাউনের পাশে নারিকেল গাছের নিচে ফেলে পালিয়ে যায়। পরের দিন সকালে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এলাকাবাসী ও তার স্বজনদের সাথে নিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং আসিফকে গ্রেফতার করে।
প্রেসব্রিফিংকালে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএম মনিরুল ইসলাম এসময় ধৃত আসামী আসিফকে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত করেন।
