নিজস্ব প্রতিনিধি । ঈশ্বরদীতে উপজেলা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আনারস প্রতিকের এমদাদুল হক রানা সরদারকে ৩ দিনের মধ্যে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে রির্টানিং অফিসারের নিকট কারন দর্শানো নোটিশের জবাব দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে । ১৪ মে তাকে এ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
২৯ মে অনুষ্ঠিতব্য ৩য় ধাপে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রচারণার শুরুতেই ১৩ মে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ এমদাদুল হক রানা সরদার স্থানীয় এমপি গালিবুর রহমান শরীফ ও যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমালের ক্ষমতার প্রভাব ঘাটিয়ে প্রশাসনের সামনে হোন্ডা মিছিল করায় তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় এমপি সমর্থিত প্রার্থী পরিচয়ে রানা সরদার নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে । বিভিন্ন সংবাদপত্র,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ফেসবুকে আচরন বিধি লংঘনের বিষয়টি প্রকাশিত হলে এবং ভোটারদের প্রভাবিত করা ও নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করার অভিযোগে মটর সাইকেল প্রতিকের অপর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর লিখিত অভিযোগের কারনে তাকে এ শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে ।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,আগামী ২৯ মে অনুষ্ঠেয় ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য গত ১৩ মে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয় । এদিনে স্থানীয় ও পাবনা ৪ আসনের এমপি গালিবুর রহমান শরীফ সমর্থিত প্রার্থী পরিচয় দেয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী এমাদুল হক রানা সরদার আনারস প্রতীক পান। প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে ৫জন সমর্থক নিয়ে যোগ দেয়ার বিধান থাকলেও রানা সরদার তা মানেননি। পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া আনারস প্রতীক নিয়ে বিকাল চারটায় তিনি শতাধিক মটরসাইকেল মিছিল নিয়ে ঈশ্বরদী পোস্ট অফিস মোড় হয়ে বাজার অভিমুখে আসেন । সেই সাথে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক পোষ্ট অফিস মোড় থেকে জমায়েত রাখা নেতাকর্মীদের নিয়ে আনারস প্রতিকের মিছিল করেন । একই সঙ্গে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে এলাকায় আতংকিত পরিবেশ সৃষ্টি করেন। এতে স্থানীয় এমপির সমর্থক নেতাকর্মীর পাশাপাশি যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন মামলার আসামি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরাও অংশ নিয়েছে। যা নির্বাচনী আচরণবিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পোস্ট অফিস মোড়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য গালিবুর রহমান শরীফ ও তার ছোট ভাই উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শিরহান শরীফ তমালের অনুসারী নেতাকর্মীরা রানা সরদারের পক্ষে মিছিলে যোগ দিতে সোমবার দুপুর থেকে অবস্থান নেন। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে রানা সরদার সেখানে পৌঁছালে মিছিল শুরু হয়। থানা মোড় এলাকায় পুলিশ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় বাধা দিলে তারা আনারস প্রতীক নিয়ে বিশাল মিছিল সহ ঈশ্বরদী রেলগেট হয়ে বাজার এলাকায় সমাবেশে করে। এ সময় শহরে ব্যপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিয়েছেন। ভোটারদের স্বতঃফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে দলীয় প্রতীক না দিয়ে সবাইকে অংশ নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। কিন্তু প্রচারণার শুরুতেই রানা সরদার আচরণবিধি ভঙ্গ করে মোটরসাইকেল শোডাউন করেছে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও হোন্ডা প্রতিকের শক্তিশালী চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন,রানা সরদার নিজেকে এমপির সমর্থিত প্রার্থী পরিচয় দিয়ে আমার নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আনারস ছাড়া অন্য প্রতীকে ভোট দিলে পরিণাম ভালো হবেনা বলে ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে । কাজেই সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে,আমি এর প্রতিকার চেয়ে রিটার্নিং অফিসারকে জানালে তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট,পাবনা ও রির্টানিং অফিসার ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সাধারন নির্বাচন ২০২৪ (৩য় ধাপ) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,মোঃ এমদাদুল হক রানা সরদারের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের লিখিত অভিযোগ তদন্ত করে আইনশৃংখলা বাহিনীর দাখিলকৃত প্রতিবেদনের ফলে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ।
