ঢাকাবুধবার , ৮ মে ২০২৪
  • অন্যান্য

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল ঈশ্বরদীর স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত প্রতিভাবান খুদে বিজ্ঞানী তারিফ

জয়পত্র ডেস্কঃ
মে ৮, ২০২৪ ৫:০৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি । ঈশ্বরদীর বকুলের মোড়ের মৃত আব্দুস সালামের ছোট ছেলে ঈশ্বরদীর উদিয়মান ও স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত খুদে বিজ্ঞানী তাহের মাহমুদ তারিফ এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (৭ মে) দুপুর ১২টায় ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কে দাশুড়িয়ার কালিকাপুর এলাকায় একটি সিএনজিকে পেছন থেকে একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
তারিফের পরিবার সূত্রে জানা যায়,সকালে আগামী মাসে একটি বৈজ্ঞানিক মেলায় নতুন উদ্ভাবনীর জন্য কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য সিএনজি যোগে ঈশ্বরদী থেকে পাবনায় যাচ্ছিল তারিফ। চলন্ত সিএনজিটি দাড়িয়ে গেলে পেছন থেকে একটি ট্রাক সিএনজিকে ধাক্কা দেয়। তখন তারিফের নাক মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার হাত পায়ের হাড় ভেঙ্গে যাওয়া ধরা পড়ে। তখন তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবীর কুমার দাস জানান, তারিফ একজন উদীয়মান ক্ষুদে বিজ্ঞানী। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার খবর পেয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে প্রেরণের ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে বিকেল ৫টায় টাঙ্গাইলে সে মারা যায়।
ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ্ব এস এম রবিউল ইসলাম জানান, তাহের মাহমুদ তারিফ গত বছর কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে। সে দেশের একজন উদীয়মান ও আগামী দিনের জন্য চরম সম্ভাবনাময়ী একজন আবিষ্কারক হিসেবে ইতোমধ্যে আলোচিত হয়ে উঠেছিল। তার মৃত্যুতে দেশ আবিষ্কার জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারালো। তার বেশ কিছু আবিষ্কার রয়েছে। সেগুলো আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।আমার তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।
সরকারি সাঁড়া মারোয়াড়ি স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল হক শাহিন জানান, নিহত তারিফ আমাদের স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী। দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী থাকাকালীন সময়ে অক্সিজেন জেনারেটর ও কনসেনট্রেটর আবিষ্কার করে। তার মৃত্যুতে দেশবাসী চরম সম্ভাবনাময়ী একজন আবিষ্কারককে হারালো।
৮ মে বুধবার সকাল ৯টায় ঈশ্বরদী সরকারী কলেজে তার নামাজে জানাজা শেষে এই খুদে বিজ্ঞানীর মরদেহ ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হবে।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় তারিফের মৃত্যুতে ঈশ্বরদীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারিফ করোনাকালীন সময়ে দেশে অক্সিজেনের সংকট মুহূর্তে স্বল্প খরচে কৃত্রিম অক্সিজেন উৎপাদন যন্ত্র ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’ আবিষ্কার করে দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন। এই উদ্ভাবনের স্বীকৃতিস্বরূপ খুদে উদ্ভাবক হিসেবে ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে শেখ রাসেল স্বর্ণপদক অর্জন করেন। এছাড়াও স্যানিটারি ন্যাপকিনের ভেন্ডিং মেশিন উদ্ভাবন করেন তিনি।
২০২০-২০২৩ সাল পর্যন্ত তারিফ চারবার জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ খুদে বিজ্ঞানী হিসেবে পুরস্কার লাভ করেন।
সুত্র মতে, তারিফ ঈশ্বরদী সরকারী সাঁড়া মাড়োয়ারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী থাকাকালিন সময়ে করোনায় তার বাবাকে অক্সিজেনের অভাবে মারা যেতে দেখেন। একই সঙ্গে অক্সিজেনের অভাবে মানুষকে মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করতে দেখেন। এই কষ্টটি তাঁর আবিষ্কারক মনকে নাড়া দেয়। অক্সিজেনের অভাবে কাউকে যেন এভাবে মৃত্যুবরণ করতে না হয় এই সংকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেন। নিজে উদ্ভাবন করেন অক্সিজেন জেনারেটর ও কনসেনট্রেটর।
যা সাধারণত প্রতি মিনিটে ২৫ লিটার বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহ করতো। অক্সিজেন জেনারেটর ও কনসেনট্রেটর বাতাসের ২১ শতাংশ অক্সিজেনকে প্রক্রিয়াজাত করে ৯৮ শতাংশে রূপান্তর করে। যন্ত্রটি একটানা সাত ঘণ্টা অক্সিজেন সরবরাহে সক্ষম। এরপর ১০ মিনিট বিরতি দিলে আবারও টানা সাত ঘণ্টা চলে। তারিফ নিজের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে এর নামকরণ করেছেন ‘টিএলআর-সিভি-১৯’।
এছাড়াও স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের আকর্ষিক পিরিয়ড শুরু হলে তাৎক্ষনিক সমাধানের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিনের ভেন্ডিং মেশিন উদ্ভাবন করেন তারিফ।