ঈশ্বরদী প্রতিনিধি।। অতিতে ঈশ্বরদীতে ৪৪ ডিগ্রি তাপমাত্রার রেকর্ড থাকলেও ১৩ এপ্রিল থেকে ১লা মে পর্য়ন্ত এত দীর্ঘস্থায়ী সর্বোচ্চ তাপদাহ পড়েনি। কিন্তু এবছর দীর্ঘস্থায়ী তীব্র তাপদাহের মধ্যে ঈশ্বরদীর জনজীবন অতিষ্ঠ ও স্থবির হয়ে পড়েছে। আরো তাপদাহ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অফিস এখনও কোন বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাষ দেয়নি।
গোটা ঈশ্বরদীজুড়ে সুপ্রিয় পানি,ডাব,শরবত ও স্যালাইন সংকট দেখা দিয়েছে। সড়কে কমেছে মানুষের চলাচল। চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে গতকাল ৪৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস । ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষনাগারের সহকারি পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষনাগার সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে- গত ১৩ এপ্রিল তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রী, ১৪ এপ্রিল ৩৯ ডিগ্রী, ১৫ এপ্রিল ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি, ১৬ এপ্রিল ৩৯.৮ ডিগ্রী , ১৭ এপ্রিল ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস,১৮ এপ্রিল ৩৯.০ ডিগ্রি, ১৯ এপ্রিল ৪১.০ ডিগ্রি, ২০ এপ্রিল ৪১.৬ ও ২১ এপ্রিল ৪২.০ ডিগ্রি,২২ এপ্রিল ৪০.৫,২৩ এপ্রিল-৪০.৩,২৪ এপ্রিল-৪১.২,২৫ এপ্রিল-৪১.৫,২৬ এপ্রিল-৪২.৪,২৭ এপ্রিল-৪১.৫,২৮ ্ওপ্রিল-৪১.৩,২৯ ্ওপ্রিল-৪২.৫,৩০ এপ্রিল-৪৩.২ এবং-১রা মে ৪২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ।
তীব্র তাপপ্রবাহের মাধ্যমে ঈশ্বরদীর বাতাসে বইছে আগুন । এক নাগাড়ে তাপপ্রবাহের কারনে লিচু নগরীর লিচু চাষিদের চেয়ে মধ্যব্যবসায়ীরা বেশী শংকিত হয়ে পড়েছে । কারন তারা লিচুর মুকুল বের হওয়ার পূর্বেই বাগান কিনে পরিচর্যা করতে অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছে।এমন অবস্থায় অতি তীব্র তাপদাহ প্রবাহমান থাকায় তাদের পূঁজি হারাতে বসেছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় লিচুর গুটি ঝরে পড়ছে। প্রচন্ড খরায় দেশি লিচুর গুটি ও বোম্বাই লিচুর গুটি পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন লিচু চাষের সাথে জড়িতরা । তারা জানান, এভাবে তাপপ্রবাহ বিরাজমান থাকলে অধিকাংশ লিচুর গুটি ঝরে পড়বে এবং আমরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবো ।
এদিকে তীব্র দাবদাহে বেশি বিপদে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া দিনমজুর শ্রেণীর মানুষ। রোদের তীব্রতায় পিচঢালা সড়ক থেকে উষ্ণ তাপ ছড়িয়ে পড়ছে।ফলে খুব জরুরী না থাকলে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।ফলে এখন পা চালিত রিকশা না থাকলেও ইঞ্জিন চালিত রিক্সা ও অটোচালকদের সড়কে যাত্রী পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ঈশ্বরদী বাজার ও রুপপুর পারমানবিক এলাকাঘুরে দেখা গেছে,এত তাপদাহের মধ্যেও রাশিয়ানরা বেশ অবায়াশেই স্বাভাবিক চলাচল করছে। পথচারী জুলমত হায়দার,ডাবলু মাষ্টার,মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার,শ্রমিক নেতা জুলহাস উদ্দিন বলেন,আমাদের সকলেরই বয়স ৮০ এর কোটায়,এর চেয়ে অনেক বেশী রোদ্রের প্রখরতা আমরা দেখেছি কিন্তু এত বেশী দিন তাপ দেখিনি । সারা বিশ্ব জুড়েই যেখানে তাপমাত্রা বেড়েছে সেখানে বাংলাদেশ তথা ঈশ্বরদী বাদ যাবে কিভাবে ।
ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ,বাসটার্মিনাল জামে মসজিদ ও কোবা মসজিদের ঈমামগণ জানান,প্রচন্ড তাপদাহের কারনে যোহরের নামাজ পড়ার পরও মসজিদে মুসুল্লীদের অবস্থান চোখে পড়ার মতো। পৌর শহরের মহিলা কলেজ গেটে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালক কাজেম বলেন, রোদে খুব গরম, রাস্তায় রিকশা চালানো দ্বায়। মাথার উপর ছাতা লাগানোর পরেও গরম লাগছে । অতিরিক্ত রোদ আর গরমে বাইরে মানুষের সমাগম খুবই কম। এতে আমাদের ভাড়া কম হচ্ছে । ফলে সংসার চালাতে হীমসীম খেতে হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে প্রতিদিনের মতো আজও বিক্রি হচ্ছে লেবুর শরবত,ডাব,আখের রস।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণার অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান, ঈশ্বরদীতে তাপপ্রবাহ আরো বেশ কয়েকদিন বিরাজমান থাকার সম্ভাবনা রয়েছে ।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল বাতেন ও শফিকুল ইসলাম শামিম জানান,তীব্র তাপদাহ ও প্রচন্ড গরম পড়লেও হাসপাতালে গরম ও তাপদাহ জনিত কারনে নতুন কোন রোগী ভর্তির রেকর্ড নাই ।
