নিজস্ব প্রতিনিধি \ ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লক্ষ বীরাঙ্গনার সর্বোচ্চ আত্মত্যাগে এবং নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ অর্জন করে তার স্বাধীনতা।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়ে আজ মঙ্গলবার ৫৪তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করছে জাতি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
বঙ্গবন্ধু সব সময় রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। বর্তমান সরকার তার সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ দ্রæত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা,স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন,নারীর ক্ষমতায়ন,শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস,দারিদ্র্য বিমোচন,গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। দারিদ্র্য হ্রাসের পাশাপাশি মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্ণফুলী টানেল,হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজও সুষ্ঠুভাবে চলছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। টেকসই উন্নয়নের এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ অর্জিত হবে। বাংলাদেশ একটি উন্নত-ধনী-স্মার্ট দেশে পরিণত হবে, প্রত্যাশায় এবারে ৫৪তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে।
এ উদ্দেশ্যে জাতীয় কর্মসূচির সাথে তালমিলিয়ে ঈশ^রদী উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা আওয়ামীলীগ,ঈশ^রদী প্রেসক্লাব,বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষনা ইনষ্টিটিউট,ঈশ^রদী মহিলা কলেজ,দাশুড়িয়া ডিগ্রি কলেজ,কসুন্ধরা শুভ সংঘ,পূর্বটেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,ভাষা শহীদ বিদ্যানিকেতনসহ ঈশ^রদীর সকল বেসরকারী কলেজ,সরকারী কলেজ,সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়,প্রাথমিক বিদ্যালয়,মানবাধিকার সংগঠন,বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি পালননে নানা কর্মসূচি গ্রহন করে। উপজেলা প্রশাসন দিনের প্রত্যুশে আলহাজ মোড়স্থ বিজয় স্তম্ভে ৩১বার তপোধ্বনী ও শহীদদের স্মরনে স্মৃতিস্তম্ভে পূষ্পাঞ্জলী অর্পন শেষে জাতীয় ও মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তোলন করে দিনব্যাপী কার্যক্রম শুরু করেন । উক্ত সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৭১,পাবনা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গালিবুর রহমান শরীফ দিবসটির শুভ সূচনা করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবীর কুমার দাশের সার্বিক তত্বাবধানে এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী,ওসি রফিকুল ইসলামসহ উপজেলার সকল দপ্তরের প্রধানগন।
অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসন শিশুদের জন্য সেমিনার,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,চিত্রাঙ্কন ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করে ।
এরপর এসএম স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে কূচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয় এবং দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানেও গালিবুর রহমান শরীফ এমপি প্রধান অতিথি ছিলেন।
ঈশ^রদী উপজেলা আওয়ামীলীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন এবং গালিবুর রহমান শরীফ এমপি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর নেতৃত্বে একটি বিজয় মিছিল পায়ে হেটে আলহাজ মোড়স্থ বিজয় স্তম্ভে গিয়ে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পূষ্পামাল্য অর্পন করেন।
এ সময় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম বিশ^াস,দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান চঞ্চল,জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সম্পাদিকা মাহজেবিন শিরিন পিয়া,পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল খালেক,সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন খান,জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি জাহাঙ্গির হোসেন,সাধারন সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন,কৃষকলীগের আহবায়ক ফজলুর রহমান মালিথা,উপজেলা আওয়ামীযুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমাল,স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক মাসুদ রানা,পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব,সাধারন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম লিটন,ছাত্রলীগ সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময়, পৌর ছাত্ররীগের সভাপতি আবির হাসান শৈশবসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পূষ্পমাল্য অর্পন করেন। এর পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সরকারী প্রতিষ্ঠান,পৌরসভা,হাসপাতালসহ সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পূষ্পমাল্য অর্পন করেন।
সূর্যোদয়ের সময় সকল সরকারি,আধা-সরকারি,বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ঈশ^রদী মহিলা কলেজ,সুগারক্রপ,থানা,আওয়ামীলীগ অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ সব ভবন ও স্থাপনা আলোকিত করা হয়।
এদিকে দেশের শান্তি,উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করে। হাসপাতাল,জেল,শিশু নিবাস,বৃদ্ধাশ্রম,ডে কেয়ার সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানে ইফতারকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ মানের খাবার বিতরণ করা হয়।
