ঢাকারবিবার , ১৭ মার্চ ২০২৪
  • অন্যান্য

ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে জাতির জনকের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস

জয়পত্র ডেস্কঃ
মার্চ ১৭, ২০২৪ ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি । হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী আজ। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত এ নেতা ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। যিনি আজীবন বাংলার মানুষ ও দেশকে নিয়েই ভেবেছেন। বাংলার মানুষ তিনবেলা পেট পুরে ভাত খাবে, হাসবে, খেলবে, মুক্ত হাওয়ায় বসবাস করবে-এই ছিল তার জীবনের ব্রত। এই হলো বঙ্গবন্ধুর দর্শন। মানুষ, সমাজ, রাষ্ট্র নিয়ে মৃত্যু অবধি শুধু সেই কথাই ভেবেছেন তিনি। সব সময় থেকেছেন সেই চিন্তায় মগ্ন। স্বপ্ন দেখতেন সোনার বাংলার । বাঙালির আদর্শ পুরুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বর্তমান প্রজন্মের মন-মননে, চিন্তাচেতনায়, আদর্শ-অনুপ্রেরণায়, চেতনায়-জাগরণে প্রদীপ্ত শিখারূপে প্রবহমান। বাঙালির হৃদয় আকাশে বঙ্গবন্ধু আজও জ্বলজ্বলে উজ্জ্বল ধ্রুবতারা।
বাঙালি জাতির ইতিহাসের নায়ক বঙ্গবন্ধু। এ ইতিহাসে তার স্থান চির অমলিন, অমোঘ। তিনিই ছিলেন বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবের ঘটনার রূপকার, বাঙালির দুঃসময়ের কান্ডারি, ইতিহাসের মহানায়ক। ওই স্থানটি শুধু তারই জন্য তোলা। তাঁকে যতই ভুলে যাওয়ার, ভুলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা হোক; কিংবা তার জায়গায় বা তার ওপরে কাউকে বসিয়ে দেওয়ার কসরত করা হোক, তাতে লাভ কিছুই হবে না। কারণ তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা, গৌরব আর অহংকারের প্রতীক।
বিংশ শতাব্দীতে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে যারা বিশ্বনন্দিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের অন্যতম। মা-বাবার আদরের ‘খোকা’ এখন ‘হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’, ‘স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা’, ‘জাতির পিতা’, ‘বঙ্গবন্ধু’, ‘বাংলাদেশের জনক’সহ আরো অনেক নামে অভিষিক্ত। কিন্তু সার্বিকভাবে তিনি একটি আদর্শের নাম। যে আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, বিশ্বের বুকে জন্ম দিয়েছিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের। তার যে ত্যাগ ও সংগ্রাম সে সবই আজ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হয়ে ধরা দিয়েছে তরুণ প্রজন্মের সামনে। যেখানে ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ, মোহ, পদ-পদবির ঊর্ধ্বে উঠে নিজের বিশ্বাসে অটল থেকেছিলেন তিনি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্ব নয়, এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই ছিল তার লক্ষ্য। তিনি কখনো ক্ষমতার পেছনে ছোটেননি। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে বঙ্গবন্ধু একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। অনন্য সাধারণ এ নেতাকে ‘স্বাধীনতার প্রতীক’ বা ‘রাজনীতির কবি’ খেতাবেও আখ্যা দেওয়া হয়।
বিগত বিংশ শতাব্দীর কিংবদন্তি কিউবার বিপ্লবী নেতা প্রয়াত ফিদেল ক্যাস্ট্রো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হিমালয়ের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। ক্যাস্ট্রো বলেন, ‘আমি হিমালয়কে দেখিনি, তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি।’ ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন জনগণের নেতা এবং তাদের সেবায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাকে দেওয়া বঙ্গবন্ধু খেতাবে এ দেশপ্রেমিক নেতার প্রতি দেশের মানুষের গভীর ভালোবাসা প্রতিফলিত হয়।’
ক্ষণজন্মা এ মহামানবের স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণে তারই নির্দেশিত পথ ধরেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। ১০৫তম জন্মদিনে বাঙালি জাতি শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়, কৃতজ্ঞচিত্তে ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপন করবে। দিনটি জাতীয় শিশু-কিশোর দিবস হিসেবেও উদযাপিত হবে। দিবসটিতে এ বছরের প্রতিপাদ্য- ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ধরে, আনব হাসি সবার ঘরে ঘরে’।
দিবসটি পালন উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে সারাদেশে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে । সে মোতাবেক ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস পালন উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ে সকাল আটটায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পূষ্পমাল্য অর্পন করা হয় ।
দুপুরে দলীয় কার্য়ালয়ে আলোচনা সভা,মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয় এবং সারাদিন বঙ্গবন্ধুর ভাষন বাজানো হয়। উক্ত সকল কর্মসূচিতে ৭১,পাবনা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গালিবুর রহমান শরীফ,সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বিশ্বাস,ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ মিন্টু,ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান,ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র ইছাহক আলী মালিথা,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মোখলেসুর রহমান মিন্টু,উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমাল,জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য শফিউল অলম বিশ্বাম,জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী মাহজেবিন শিরিন পিয়া,স্চ্চোসেবকলীগের আহবায়ক মাসুদ রানা,উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিলন মাহমুদ তন্ময়,পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আবির হাসান শৈশবসহ আওয়ামীলীগের সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিবসটি উপলক্ষে পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করেন।
বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৭ মার্চ পালিত হয় ‘জাতীয় শিশু দিবস’। ১৯৯৬ সালে প্রথম বাংলাদেশে জাতীয় শিশু দিবস পালন করা হয়। আজকের শিশুই আগামী দিনের সক্ষম নাগরিক। শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর দরদ ছিল অপরিসীম। শিশুদের খুবই ভালোবাসতেন তিনি। তার জন্মদিনে তিনি শিশুদের সঙ্গে কাটাতে পছন্দ করতেন। ওইদিন শিশুরা দলবেঁধে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে যেত। এসব সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে তার জন্মদিনটায় জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
তার জন্মদিনকে শিশুদের জন্য উৎসর্গ করে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশকে শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাসভূমিতে পরিণত করার শপথ নিতেই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বাংলাদেশে পালিত হয় জাতীয় শিশু দিবস । শেখ মুজিবুর রহমানের কর্ম ও রাজনৈতিক জীবন অসামান্য গৌরবের। তার এ গৌরবের ইতিহাস থেকে প্রতিটি শিশুর মাঝে চারিত্রিক দৃঢ়তার ভিত্তি গড়ে উঠুক–এটাই জাতীয় শিশু দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ।