দেশের মানুষ যাতে স্বস্তিতে থাকতে পারেন, সেজন্য নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন মন্ত্রীদের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, পবিত্র রমজান ঘনিয়ে আসছে, তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন। কারণ এই মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ানো উচিত নয়। গতকাল শনিবার টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাসভবনে অনানুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রধানমন্ত্রী নতুন মন্ত্রীদের নিয়ে এদিন টুঙ্গিপাড়া আসেন।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি অনানুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল। প্রধানমন্ত্রী রমজানে বড় মজুদদাররা যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির জন্য জরুরি পণ্য মজুদ করতে না পারেন, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মন্ত্রীদের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখুন; যাতে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে থাকতে পারেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের প্রথমে তাদের মন্ত্রণালয়ের সার্বিক বিষয়ে তথ্য জানার জন্য নির্দেশ দেন। সালাউদ্দিন বলেন, শেখ হাসিনা দেশ ও জনগণের জন্য কল্যাণকর যেকোনো প্রকল্প গ্রহণের সময় মন্ত্রীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন।
এদিকে টুঙ্গিপাড়ায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কিছু লোক আছে দেশে ঝামেলা বাধানোর চেষ্টা করে। ক্ষতি করার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা যত বেশি কাজ করব, ততই তাদের অন্তর জ্বালা বাড়ে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার গোটা দেশকে ভালো করে দেখব। কারণ এত উন্নয়ন করেছি, সেটা দুচোখে দেখতে চাই। মানুষের জন্য কি করতে পারলাম, সেটাও দেখতে চাই। আমি টুঙ্গিপাড়া এসে ভ্যানে করে ঘুরে বেড়াতে চাই। বিভিন্ন বাড়ি যাব আর খাওয়া-দাওয়া করব- এটাই আমার আকাঙ্ক্ষা। এজন্য ঢাকায় আমার কোনো বাড়ি কিংবা ফ্লাট নেই। যা আছে, সব টুঙ্গিপাড়ায়।
এর আগে সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা দিয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় দুদিনের সফরে টুঙ্গিপাড়া পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। টুঙ্গিপাড়া পৌঁছালে নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ মুখরিত করে তোলেন নেতাকর্মীরা। হাস্যোজ্জ্বল মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের স্বাগত জানানোর জবাব দেন। পরে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান তিনি। শ্রদ্ধা জানানো শেষে বেদির পাশে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে জাতির এ শ্রেষ্ঠসন্তানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে পবিত্র ফাতেহা পাঠ করে তিনি বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেলসহ ৭৫-এর ১৫ আগস্টের শহীদ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন।
এরপর দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান করেন। পরে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। দুদিনের সফরে তিনি শনিবার টুঙ্গিপাড়ার নিজ বাসভবনে রাত কাটান। আজ রবিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ নির্বাচনী এলাকার কোটালীপাড়া যাবেন। কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স চত্বরে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন বলে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে। আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ফেরার কথা।
