নিজস্ব প্রতিনিধি ।
রঙিন ফিতা দিয়ে বাঁধা স্কুলে স্কুলে নতুন পাঠ্যবই হাতে নিয়ে স্কুলের মাঠে আনন্দে নাচছিল শিশু শিক্ষার্থীরা । নতুন বই পেয়ে খুব ভালো লেগেছে শিক্ষার্থীদের । সেই সঙ্গে শিক্ষা বান্ধব প্র্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অতুলনীয় উদ্যোগ বছরের প্রথম দিনে সকল শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই বিতরণের এ উৎসবও তাদের খুব পছন্দ হয়েছে । ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন সারা দেশের মতো ঈশ্বরদীর বিভিন্ন স্কুল থেকে শত শত শিক্ষার্থী জড়ো হয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘বই উৎসবে’ অংশ নিতে। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন ক্লাসের নতুন পাঠ্যবই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই আসে তাদের অভিভাবকদের হাত ধরে ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার স্কুলে স্কুলে এ ‘বই উৎসব’ হয় । নতুন বই নিয়ে নতুন ক্লাসে ওঠার আনন্দে উচ্ছ্বসিত শিশুরা । অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ ছাড়া আবৃত্তি,ছড়া,গান,নাচসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উৎসবের মাত্রাকে করে আরো রঙিন । শিশুরা নতুন বই পেয়ে হাত উঁচিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে ।
এসএম স্কুল এ্যান্ড কলেজ মাঠে বই তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবীর কুমার দাশ ।বাংলাদেশ ইক্ষুগবেষনা ইনষ্টিটিউট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে ‘বই বিতরণ উৎসব-২০২৪’-এর উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানের ডিজি ড.মোঃ ওমর আলী । এ ছ্ড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি,চেযারম্যান,মেম্বর,মেয়র,কাউন্সিলর,স্থানীয় নেতৃবৃন্দ স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বই বিতরণ করেন ।
আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই নতুন বছরের প্রথম দিন উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সারবে সরকার । ৭ জানুয়ারির ভোটের কারণে বই উৎসবের তারিখে কোনো পরিবর্তন আসবে না। গত রবিবার এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বই উৎসব সম্পর্কে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন,বইয়ের পৃষ্ঠা শিশুর মনোজগতে বিস্ময় তৈরি করে। শিশুমনের এ আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহে বই বিতরণের সূচনা। সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন বই উৎসবে পরিণত হয়েছে। মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য প্রয়োজন মানসম্পন্ন শিক্ষক। সরকার শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলছে।
বই বিতরণী অনুষ্ঠানে সচিব ফরিদ আহাম্মদ বলেন,‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার পুরোনো ধারার শিক্ষার খোলস পাল্টে এমন এক নতুন শিক্ষার বীজ বপনের কাজে হাত দিয়েছে, যা শিক্ষার্থীর মস্তিষ্ক ও পিঠ থেকে মুখস্থবিদ্যার বোঝা ঝেড়ে ফলে তাদের কৌতূহল, জিজ্ঞাসা, অনুসন্ধান, গবেষণা ও ভাবনার শক্তিকে জাগাবে ও নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরিতে উপযোগী করে তুলবে ।’
২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ২ কোটি ১২ লাখ ৫২ হাজার ৬ শিক্ষার্থীর হাতে ৯ কোটি ৩৮ লাখ ৩ হাজার ৬০৬টি বই তুলে দেন সরকার। বরাবরের মতো বছরের প্রথম দিন বই উৎসব করলেও ছাপার কাজ শেষ না হওয়ায় মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের সব বই পেতে অপেক্ষা করতে হবে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত । বই উৎসবের সূচনা হয় ১৩ বছর আগে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বছরের প্রথম দিন থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়ার প্রচলন শুরু করেন ২০১০ সালে, যা নাম পেয়েছে ‘বই উৎসব’।
