নিজস্ব প্রতিনিধি ।
ঈশ্বরদী পুরাতন বাস টার্মিনালে রেলের পরিত্যক্ত জায়গায় নির্মাণ করা ঐতিহাসিক মাহবুব আহমেদ খান স্মৃতি মঞ্চ ভেঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষ সেখানে পাবলিক টয়লেট করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন । সে মোতাবেক টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শেষ হলে ২ জানুয়ারি সে পাবলিক টয়লেটের উদ্বোধন করেন ।
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রাক্কালে মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন-সংগ্রাম, সভা-সমাবেশের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এ মঞ্চ । পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান এ মুক্ত মঞ্চেই অনুষ্ঠিত হতো । কাজেই ঈশ্বরদীর মানুষের আবেগ, অনুভূতি, পুরানো স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এ মঞ্চকে ঘিরে। কিন্তু ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ ঈশ্বরদীর সচেতন সমাজ,স্থানীয় ব্যক্তি এমনকি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের প্রবল আপত্তিকে উপক্ষো করে সম্পূর্ণ ব্যক্তি আক্রোশে ও জিঘাংসার বশবর্তী হয়ে এ মঞ্চসহ আশপাশের বেশকয়েকটি দোকানপাট উচ্ছেদ করেন এবং সেখানে পাবলিক টয়লেট স্থাপন করেন ।পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ভাষা সৈনিকের নামে নির্মিত মঞ্চের স্থানে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে রেল মন্ত্রী সুজনকে দিয়ে উদ্বোধন করেন । ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি মঙ্গলবার পশ্চিামাঞ্চল রেলের জি.এম অসীম কুমার তালুকদার সেই পাবলিক টয়লের উদ্বোধন করেন । সেখানে ঈশ্বরদীর সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন কাউকে বিষয়টি অবগতও করা হয়নি কেউ উপস্থিতও হয়নি ।
উল্লেখ্য যে,২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মাহবুব আহমেদ খান স্মৃতি মঞ্চ ভেঙ্গে ফেলার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীর সচেতন সমাজের ব্যানারে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যাহত রেখে মঞ্চ পুণঃনির্মাণের দাবি জানান । কিন্তু সেদিনের পাবলিক সেন্টিমেন্টকে তোয়াক্কা না করে রেল কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। অথচ কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে র্মিত পাবলিক টয়লেটটি যাত্রীদের কোন কাজে অঅই আসবে না। কারন রেলের ষ্টেশন একজায়গায়,ট্রেন থামে একজায়গায়, চিটকেট কাটা হয় আরেক জায়গায়এবং ষ্টেশরন থেকে অনেক দূরে হলো পাবলিক টয়লেট। সেখানে একেজন যাত্রী টয়লেটে এলে কোন ক্রমেই গিয়ে ট্রেন ধরতে পারবেন না । যার ফলে আবেগপ্রবণ ঈশ্বরদীবাসী মনে করেন, ভাষা সৈনিকের নামে নির্মিত মঞ্চ ভেঙ্গে সেখানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক । ষ্টেশনের অদূরে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করার মতো যথেষ্ঠ জায়গা থাকতেও ঐতিহাসিক স্মৃতি মঞ্চ ভেঙ্গে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ কোনদিনই মেনে নেওয়ার নয়।
এ ব্যাপারে কথা হয় ডিআরএম শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ এর সাথে তিনি বলেন,ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনকে আধুনিকীকরণের জন্য রেলের পরিত্যক্ত জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। যার ফলে এখানে যে একটি মঞ্চ ছিল সেটিও উচ্ছেদ করা হয় এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেখানে একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের দাবির মুখে ভেঙ্গে ফেলা মঞ্চের আশেপাশে নতুন করে আরেকটি মঞ্চ নির্মাণ করার কথা চলমান ছিল । কিন্তু বর্তমানে তাদের দাবি মঞ্চটি হবে অন্যত্র। এ কারনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রেলগেট এলাকায় খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনালে মঞ্চ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহন করা হবে ।
