ভারতে প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদন অঞ্চলগুলোয় ব্যাপক হারে দাম কমে গেছে। এজন্য রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। গতকাল মঙ্গলবার ইকোনমিক টাইমসকে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ফলে ৩১ মার্চ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার যে সময়সীমা ঘোষণা করেছিল নয়াদিল্লি তা আর বলবৎ থাকছে না।
জানা গেছে, সম্প্রতি ভারতের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরে পেঁয়াজের দাম হুহু করে বাড়তে থাকে। মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হতে থাকে। দেশটিতে আসন্ন নির্বাচনের বিষয়টি সামনে রেখে এরপর গত ৮ ডিসেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় নরেন্দ্র মোদি সরকার। বিশ্বের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশটির রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার খবরে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তাৎক্ষণিক বেড়ে যায় পেঁয়াজের দাম।
গত কয়েক দিনে দেশটিতে নতুন খরিফ পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হয়। প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার কুইন্টাল (১৫ লাখ কেজি) পেঁয়াজ সরবরাহ হওয়ায় হঠাৎ দাম তলানিতে ঠেকে। দেশটির প্রধান উৎপাদন অঞ্চল মহারাষ্ট্রের পাইকারি বাজার লাসালগাঁওতে পেঁয়াজের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস পায়। এছাড়া সমগ্র দেশে খুচরা বাজারে প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজ ১ হাজার ৮৭০ রুমি থেকে প্রায় ২০ শতাংশ নেমে ১৫০০ রুপিতে নেমে আসে। রবিশস্যের তুলনায় খরিফ শস্য দ্রুত পচনশীল হওয়ায় সেগুলো দ্রুত বিক্রি করতে গিয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম এমন কমে যাক সেটা চান না খোদ ভারত সরকার।
মূলত গত বছর মহারাষ্ট্রে অসময়ে ভারী বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয় ফসলের। এর প্রভাব পড়ে পাইকারি বাজারে। দেশটির অভ্যন্তরে দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে দেশটি পেঁয়াজ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের পথে হাঁটে। তবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগে রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তখন এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে ধর্মঘট করে। এরপর রপ্তানিতে ন্যূনতম দাম বেঁধে দেয় এবং পরবর্তীতে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার।
তবে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে স্বস্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। অবশ্য এ বিষয়ে ভারতে তুলাধুনা করতেও ছাড়েননি অনেকে। মতিঝিলের ব্যাংক পাড়ায় এক বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আহসানুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে আমাদের দেশের সিন্ডিকেট ভেঙে যাবে। এতে সাধারণ মানুষ কম দামে প্রয়োজনীয় এই পণ্যটি কিনতে পারবে।
তবে এই সংবাদে ঠাট্টা করতেও ছাড়েননি একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের জনসংযোগ কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, মূলত বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারতের হারে বাংলাদেশিদের উল্লাসের কারণে আমাদের শাস্তি দিতে ভারত এই কাজটি করেছিল। কিন্তু যখন তাদের দেশেই কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে তখন তারা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয়।
