ঢাকারবিবার , ২৬ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

জিম্মি-বন্দি মুক্তিতে ফিলিস্তিনে আনন্দ, ইসরায়েলে স্বস্তি

জয়পত্র ডেস্কঃ
নভেম্বর ২৬, ২০২৩ ১:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি ও বন্দি-জিম্মিদের মুক্তিতে ফিলিস্তিনে আনন্দের জোয়ার বইছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে স্বস্তি। যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় দিনে শনিবার ১৪ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তির বিনিময়ে ৪২ ফিলিস্তিনি কারাবন্দিকে ছেড়েছে ইসরায়েল। এর আগে শনিবার প্রথম দফায় ১৩ ইসরায়েলিকে মুক্তি দেয় হামাস। অন্যদিকে ৩৯ ফিলিস্তিনি কারাবন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর শুক্রবার খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রীসহ মানবিক ত্রাণের সবচেয়ে বড় ট্রাকবহর গাজায় প্রবেশ করেছে। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার ।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতায় চুক্তির অংশ হিসেবে শনিবার হামাস ১৪ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। বিনিময়ে তেলআবিবের কারাগার থেকে ৪২ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এর আগে শুক্রবার যুদ্ধবিরতি শুরুর দিনে ২৪ জিম্মিকে মুক্তি দেয় হামাস। তাদের মধ্যে ১৩ ইসরায়েলি নারী ও শিশু ছিলেন। এছাড়া ১০ থাই নাগরিক ও একজন ফিলিপিনোকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। ওইদিন ৩৯ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয় ইসরায়েল। গাজায় টানা ৪৯ দিন যুদ্ধের পর শুক্রবার হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চার দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি শর্ত অনুযায়ী, চার দিনে ৫০ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। অন্যদিকে ১৫০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল। বন্দি ও জিম্মি মুক্তির সংখ্যা বাড়ালে যুদ্ধবিরতির মেয়াদও বাড়তে পারে। ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের আকস্মিক হামলায় গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি একদিনেই ১,২০০ জন নিহত হয়। এছাড়া আরো প্রায় ২৪০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে আসে হামাস। ওই হামলার জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় নির্বিচার হামলা চালায় ইসরায়েল। অব্যাহত বিমান থেকে বোমা হামলায় ৪৯ দিনে গাজায় ১৪ হাজার ৮৫২ জন নিহত হয়। আহত হয়েছে আরো ৩২ হাজার। হতাহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, উপত্যকাজুড়ে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে আরো ৭ হাজার ফিলিস্তিনি। তাদের অধিকাংশই শিশু।
ইসরায়েলি পরিবারগুলোতে স্বস্তি : হামাসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া ১৩ ইসরায়েলি জিম্মির পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বস্তির কথা জানিয়েছেন। মুক্তি পাওয়া এই দলটিকে রেডক্রসের ব্যবস্থাপনার গাজা থেকে মিসরে নেওয়ার পর ইসরায়েলে ফিরিয়ে আনা হয়। শুক্রবার হামাস যেসব জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে তাদের ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়ার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মিসরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে দুই, চার, ছয় ও ৯ বছর বয়সের-মোট চারটি শিশুর পাশাপাশি ৮৫ বছর বয়সি এক নারীও আছেন।
কিবুৎজের বাসিন্দা ইওনি আশারের স্ত্রী ৩৪ বছর বয়সি ডরন কাৎয আশার এবং তাদের দুই কন্যা চার বছরের রাজ এবং দুই বছরের আভিভ জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আশার বলেন, আমি আমাদের পরিবারকে দুঃসহ মানসিক অবস্থা ও শোকার্ত একটি পরিস্থিতি থেকে বের করে নিয়ে আসতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম।
তিনি বলেন, আমরা আনন্দ উদযাপন করব না। অপহরণ যাদের করা হয়েছে তাদের শেষ ব্যক্তিটি ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা কোনো উদযাপন করব না।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, আমরা আমাদের প্রথম দফার জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। শিশু ও তাদের মায়েরা এবং অন্য নারী। তারা প্রত্যেকেই আমাদের কাছে একেকটি বিশ্ব। আমি সব পরিবার এবং ইসরায়েলের নাগরিকদের কাছে জোর দিয়ে বলছি, আমরা সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।
ফিলিস্তিনে মুক্তির আনন্দ : ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ৩৯ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। পাথর ছোঁড়া থেকে শুরু করে হত্যা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের অভিযোগে তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ২৪ নারী ও ১৫ কিশোরকে বেইতুনিয়া চেকপয়েন্টের কাছে নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ উল্লাস করে তাদের শুভেচ্ছা জানায়। এর মধ্যে ২০১৫ সালে ১৬ বছর বয়সে আটক হওয়া মারাহ বাকিরও আছেন। সীমান্তে পুলিশ কর্মকর্তার ওপর ছুরি-হামলার দায়ে তার সাড়ে আট বছরের জেল দেওয়া হয়েছিল।
অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বাকির বলেছেন, বহু মানুষের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই চুক্তি হয়েছে, যা তাদের কাছে অস্বস্তিকর এবং এটি তাদের খুশি করেনি। তবে চুক্তির খবরটি ছিল অবাক করে দেওয়ার মতো বিষয়।