ঢাকাশনিবার , ২৫ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

দলীয় মনোনয়ন চাইলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বাধা নেই

জয়পত্র ডেস্কঃ
নভেম্বর ২৫, ২০২৩ ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দোরগোড়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরইমধ্যে আগ্রহী প্রার্থীদের কাছে বিক্রি শেষে মনোনয়ন ফরম জমা নেওয়ার পালা সারছে ক্ষমতাসীনসহ অন্য দলগুলো। এবার পালা মনোনয়নের। একই আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে পারবে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে দলীয় মনোনয়ন চাইলেও কোনো প্রার্থী স্বতন্ত্র নির্বাচনে আগ্রহী হলে তাতেও বাধা নেই।
সেক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রার্থীকে। অর্থাৎ কেউ নির্বাচন করতে চাইলে আগে থেকেই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। আরপিও অনুসারে, দলীয়ভাবে একবার রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন জমা দিলে আর স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ নেই। মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে দল বা জোটের চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। ওই আসনে দল বা জোটের অন্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাতিল হয়ে যাবে।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। বিএনপি এখন পর্যন্ত বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড়। ফলে অংশগ্রহণমূলক ভোট করতে স্বতন্ত্র প্রার্থী রাখার বিষয়ে উদার নীতিতে যেতে পারে আওয়ামী লীগ। আগে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ক্ষমতা প্রার্থী বা তার এজেন্টের হাতেই ছিল। দল বা জোটের চূড়ান্ত মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ ছিল। তবে দশ বছর অর্থাৎ দশম জাতীয় নির্বাচনের আগে আরপিও সংশোধন করে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষমতা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রার্থী নির্বাচনে নিবন্ধিত দলগুলোকে আরপিওর ১৬(২) অনুচ্ছেদে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হলে কোনো ব্যক্তি দলে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন।’
দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া আরপিওর এ বিধান দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চার পথে অন্তরায় বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এ নির্বাচন কমিশনার।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় আগামী ৩০ নভেম্বর। এর মধ্যে দলগুলো একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে পারবে। আর বাছাইকালে কারো প্রার্থিতা বাতিল হলে দলগুলো অন্যদের মধ্য থেকে ১৮ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগে একজনকে চূড়ান্ত করতে পারবে।
সেই হিসাবে এবার কারা দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হচ্ছেন, তা জানতে ১৮ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে। আর কোনো ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইলে সংশ্লিষ্ট আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংযুক্ত করতে হবে।