হাইকোর্টকে কটূক্তি ও আদালত অবমাননার মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবকে হাইকোর্টে হাজির করা হয়েছে । বুধবার দুপুরের দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয় । এর আগে মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবী থানার মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এরপর শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশ বুধবার দুপুরে তাকে হাইকোর্টে হাজির করেছে।
উচ্চ আদালতের এক বিচারপতিকে নিয়ে ‘অবমাননাকর বক্তব্যের’ কারণে তলব করলে হাইকোর্টে হাজির না হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টাকে ফের আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। গত ৮ নভেম্বর বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে এ নির্দেশ দেন।
৬ নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার ঘটনায় হাইকোর্টের তলবে হাজির হননি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব। পরে জেবিএম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ হাবিবুর রহমান হাবিব কোথায় আছেন রাষ্ট্রপক্ষকে সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ৮ নভেম্বর জানানোর নির্দেশ দেন।
সেই সঙ্গে তিনি কারাগারের ভেতরে না বাইরে আছেন, তা পুলিশকে জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া আদেশের পরেও কোনো বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকলে তা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে বিটিআরসিকে।
এর আগে ১৫ অক্টোবর বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ হাবিবুর রহমান হাবিবকে তলব করে আজকের দিনে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। সে সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।
বিচারিক আদালতে জজ থাকা অবস্থায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সাজা দিয়েছিলেন তিনি। পরে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল ইসলাম বলেন, বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবের বক্তব্যের লিংক ইউটিউবে প্রচারিত হতে থাকলে সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। বিষয়টি আজ হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় উত্থাপিত হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে ব্যাখ্যা দিতে তলবের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।
তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান সম্পর্কে একটা বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। সে বক্তব্যটি এতটাই অশালীন, যেটা স্বাভাবিকভাবে কোনো শিক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যায় না।
