ঢাকাবুধবার , ১৫ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

তফশিল ঘিরে বড় শোডাউনের প্রস্তুতি রাজপথ দখলে রাখার পরিকল্পনা আ.লীগের

জয়পত্র ডেস্কঃ
নভেম্বর ১৫, ২০২৩ ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজপথ দখলে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। তফশিলের পর বিএনপিসহ বিরোধীরা যেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য ঢাকাসহ সারা দেশে নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার পরিকল্পনা নিয়েছেন ক্ষমতাসীনরা। এরই অংশ হিসাবে তফশিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে স্বাগত জানিয়ে দেশজুড়ে বড় ধরনের মিছিল করতে তৃণমূল নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থানে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগও প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডে মিছিল করার প্রস্তুতি নিয়েছে। এছাড়া পাড়া-মহল্লায় অবস্থান কর্মসূচি ও শান্তি সমাবেশও চালিয়ে যাবে দলটি। মাঠে থাকবে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোও। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম যুগান্তরকে বলেন, তফশিলের পর তো পুরোপুরি নির্বাচনি যাত্রা শুরু হয়ে যাবে। আমরাও পুরোদমে নির্বাচনি কাজে নেমে যাব। তিনি আরও বলেন, বিএনপি যেন নির্বাচন সামনে রেখে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আমরা মাঠে ছিলাম, এখনো আছি এবং নির্বাচন পর্যন্ত থাকব। তাদের যে কোনো অপরাজনীতি প্রতিহত করতে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি ও শান্তি সমাবেশও থাকবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমাদের যে কর্মসূচি ছিল, সেটা থাকবে। দেশের শান্তি, উন্নয়ন এবং অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে নির্বাচন পর্যন্ত আমাদের সতর্ক পাহারা, সতর্ক অবস্থান এবং জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে। এছাড়া তফশিল ঘোষণাকে ঘিরে বিশেষভাবে নজরদারি থাকবে বলেও জানান আওয়ামী লীগের এ নেতা।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলীয় সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান। সূত্র জানায়, বৈঠকে বিএনপির ৪৮ ঘণ্টা অবরোধে সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আরও সতর্ক অবস্থায় ও পাহারার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে তফশিল ঘোষণা হলে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্পটে এবং সারা দেশের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে আনন্দ মিছিলেরও সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দলের নেতাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর বিএনপি আরও বেশি ঝামেলা করার চেষ্টা করবে। নির্বাচনের পরেও তারা এগুলো অব্যাহত রাখবে। ফলে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। তাদের মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিতে হবে।
এর পরদিন শুক্রবার অনুষ্ঠিত যৌথসভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অবহিত করেন। ওই সভায় তফশিলের পর বিএনপি-জামায়াত আরও বেশি ‘এগ্রেসিভ’ হতে পারে আশঙ্কা করে নেতাকর্মীদের আরও সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।
আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা ২৮ অক্টোবর ব্যর্থ হয়ে নতুন ছক কষছে। বিশেষ করে নির্বাচনি তফশিল ঘোষণার পর নির্বাচনকালীন সরকারের সময় সরকারবিরোধীরা দেশব্যাপী সহিংসতা শুরু করতে পারে। তফশিলকে স্বাগত জানিয়ে সারা দেশে আনন্দ মিছিল করার সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে মোবাইল এসএমএসে জানানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডের নেতাদেরও তফশিল ঘোষণার পরপরই স্বাগত জানিয়ে মিছিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি বলেন, বিএনপি নির্বাচন বানচাল করতে চায়। কিন্তু আমরা নির্বাচন চাই। দেশের মানুষও নির্বাচন চায়। তাই তফশিল ঘোষণার পর আমরা সাধারণ মানুষকে নিয়ে রাজধানীর প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডে আনন্দ মিছিল করব।
একই বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র ও নির্বাচনে বিশ্বাস করে না। তারা শুরু থেকেই নির্বাচন বানচালে নানা অপচেষ্টা করছে। কিন্তু তারা সফল হয়নি। এখন আবার তফশিল ঘোষণার পর তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। আমাদের প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডে নেতাকর্মীরা এর বিরুদ্ধে সজাগ ও সতর্ক ছিল, আছে এবং থাকবে।