ঢাকাবুধবার , ১৫ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

সংসদ নির্বাচনের তফসিল আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি

জয়পত্র ডেস্কঃ
নভেম্বর ১৫, ২০২৩ ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল আজ বুধবার ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিকেল ৫টায় তফসিল সংক্রান্ত কমিশন সভা আহ্বান করা হয়েছে। এ সভায় ভোটের তারিখটি চূড়ান্ত হবে। সম্ভাব্য ভোটের প্রস্তাব রাখা হয়েছে ২ থেকে ৭ জানুয়ারি। এখান থেকে সুবিধাজনক দিন বেছে ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হবে। তফসিল থেকে ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য দিনক্ষণ রাখা হয়েছে ৫০ থেকে ৫৩ দিন। এর আগে সকাল ১০টায় নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বিস্তারিত ব্রিফ করবেন। ইসি সূত্র বলছে, কমিশন সভায় তফসিল অনুমোদন হওয়ার পর সরাসরি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার সম্প্রচার করবেন। এমনটা হলে যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল থেকে তা ব্যতিক্রম হবে। কারণ অতীতে আগে রেকর্ডিং করে পরে সিইসির ভাষণ জাতির উদ্দেশে সম্প্রচার করা হয়েছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সদিচ্ছায় সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ভোট আয়োজনের দুটি সামগ্রী অমোচনীয় কালির কলম এবং স্ট্যাম্প প্যাড ছাড়া যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এসবের মধ্যে নির্বাচনী সামগ্রী, নির্বাচনী অ্যাপ, ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার তালিকা, প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরমও সংশ্লিষ্ট জেলাওয়ারি সংরক্ষিত আছে। এর আগে তফসিল ঘোষণার জন্য রাষ্ট্রপতির সম্মতি তাও গত ৯ নভেম্বর সাক্ষাতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়াল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি সংক্রান্ত নির্দেশনাও চূড়ান্ত হয়েছে। নির্বাচনের কাজে যুক্ত কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণও শেষ হয়েছে। আজ তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে বেজে উঠবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোল।
ইসি সংশ্লিষ্টরা জানান, তফসিল ঘোষণার বিষয়ে মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কক্ষে বৈঠক করেছেন চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কবে, কখন, কীভাবে তফসিল ঘোষিত হবে তা আগামীকাল (বুধবার) সকাল ১০টায় ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানিয়ে দেব।’ নভেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল দেওয়ার কথা এরই মধ্যে কমিশন জানিয়েছে। সেক্ষেত্রে ১৫ নভেম্বর বুধবারই তফসিল ঘোষণা করা হবে কিনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, সবকিছুর বিষয়ে বুধবার জানিয়ে দেব। তফসিল সংক্রান্ত সিইসির ভাষণ সন্ধ্যায় ‘লাইভ সম্প্রচার হবে’ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি সত্যিকার অর্থে আমার ওপর বিশ্বাস রাখেন, কাল সকাল ১০টায় জানিয়ে দেব।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর চিঠি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ভাবছে না বলে মন্তব্য করেছেন কমিশন সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেছেন, সংলাপের চিঠির বিষয়ে কমিশন অবহিত নয়। কমিশনের কাছে কিছুই আসেনি। কমিশন তার নিজস্ব গতিতে সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার আলোকে যেভাবে রোডম্যাপ হয়েছিল, সেভাবে অগ্রসর হচ্ছে। ডোনাল্ড লুর চিঠির বিষয়ে ইসি জানে কিনা আর তফসিলে এর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, অবশ্যই না। কোনো প্রভাব পড়বে না। নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে এক প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, সে ধরনের কোনো থ্রেট নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর সঙ্গে যে সভা করা হয়েছে, তাতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা সব কিছু দেখবে।
নির্বাচনের তফসিল কখন ঘোষণা করা হবে, বুধবার সকালে তা জানাবেন ইসি সচিব। সেজন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ। তারাই দেখবে। কমিশন এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছে। এদিকে, জাতীয় সংসদ এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য কমিশন থেকে চাহিদা দেওয়া আছে ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনায় ৬৮০ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ ব্যয় হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ইসির অনুমোদিত বরাদ্দ থেকে।
অতীতের মতো দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনেও রিটার্নিং কর্মকর্তা হচ্ছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। রাজনৈতিক সহিংস পরিস্থিতি, এককভাবে ইসির একজন কর্মকর্তাকে পুরো জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা না করাসহ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্নের জন্য প্রশাসনের পূর্ণ সমর্থন না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হচ্ছে না কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তফসিলের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে ইসি। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার বিষয়টি চলে আসবে। তবে ডিসিরাই রিটার্নিং কর্মকর্তা হচ্ছে তা নিশ্চিত করেছে ইসির একজন নির্বাচন কমিশনার। বলেছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আপাতত খণ্ড কোনো জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা তারা হতে চান না।
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় নির্বাচন বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রশাসনের কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ অন্যদের সঙ্গে যেভাবে যোগাযোগ রেখে নির্বাচন সম্পন্ন করেন, সেই দক্ষতা ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের নেই। এজন্য এবারও রিটার্নিং কর্মকর্তা করার ক্ষেত্রে ডিসিদেরই প্রাধান্য দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এ ছাড়া দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে সিভিল পাওয়ার এখতিয়ারের অধীনে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তবে ভোটের কত দিন আগে-পরে কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে স্পর্শকাতর ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বা এলাকায় সেনাবাহিনীকে টহল রাখার বিষয়ে সেনাবাহিনীকে পাঠানো চিঠিতে মেনশন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে ইসির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।

তফসিল ইস্যুতে আলোচনায় ইসি : তফসিল ঘোষণা নিয়ে সোমবার পর্যন্ত এক ধরনের মুখে কুলুপ ছিল ইসির। একজন নির্বাচন কমিশনাররা বলেছিলেন, তফসিল ও ভোট কবে হবে তা তারা জানেন। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বলতে নারাজ। তবে মধ্য নভেম্বরে হবে এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। নানা সংশয় ও সন্দেহের মধ্যে মঙ্গলবার একজন নির্বাচন কমিশনার গণমাধ্যমের কয়েকজন সাংবাদিকের কাছে প্রকাশ করে ফেলেন তফসিল সংক্রান্ত কমিশন সভাটি বুধবার বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে। এ খবরের পর ইসিজুড়ে শুরু হয় নির্বাচনী আমেজ। পরে সিইসি পরিস্থিতি সামাল দিতে সচিবকে দিয়ে ছোট ব্রিফিং করিয়ে উত্তাপ কমান। বুধবার তফসিল ঘোষণার পর ভোট ৭ তারিখে রাখার বিষয়ে ইসি কমিশনারদের আলোচনায় উঠে এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সেখানে ৬ তারিখের পরিবর্তে ৭ তারিখ নির্বাচন করার পেছনে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে শনিবার ভোট হলে শুক্রবার জুমার কারণে দুই থেকে আড়াই কর্মঘণ্টা নষ্ট হবে। আর রবিবার ভোট হলে সবকূল রক্ষা হবে।
এদিকে, ১৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা ইস্যুতে ইসির শিডিউলে ১৪ ও ১৫ নভেম্বর এ দুটি তারিখে কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি। তবে ১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ভোটার মুদ্রণ সংক্রান্ত একটি সভা রাখা হয়েছে, যা জারি নোটিসের তথ্যে জানা গেছে। ইসি সূত্র মতে, ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য গঠন করা হচ্ছে বিচারিক অনুসন্ধানী কমিটি। গত নির্বাচনে ছিল ১২২টি অনুসন্ধানী কমিটি। এবার আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। গত নির্বাচনে ৬৪০ জন থাকলেও এবার বাড়িয়ে ৬৫০-এর বেশি করা হচ্ছে।
ইসিতে দর্শনার্থী প্রবেশে বিধিনিষেধ ১৪-১৯ নভেম্বর : গতকাল মঙ্গলবার থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ছয় দিন জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনসহ আনুষঙ্গিক প্রয়োজনে কমিশনে দর্শনার্থীদের আগমন না করতে বিধিনিষেধ জারি করে নির্বাচন ভবনের নিচে নোটিস ঝুলানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তফসিল ঘোষণা ইস্যুতে এ সিদ্ধান্ত ইসির। এছাড়া তফসিল থেকে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত গত ১ নভেম্বর থেকে নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। ২৯ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করে নতুন নির্বাচিতদের শপথ অনুষ্ঠানের মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ শুরুর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।