ঢাকারবিবার , ১২ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

তফসিলের ক্ষণগণনা জানুয়ারিতে ভোট

জয়পত্র ডেস্কঃ
নভেম্বর ১২, ২০২৩ ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিন ঘোষণা করা হতে পারে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল, এ নিয়ে চলছে ক্ষণগণনা। তফসিল ঘোষণার জন্য যত ধরনের প্রস্তুতি দরকার; সবই সম্পন্ন। সোমবারের পর যেকোন দিন ঘোষণা হবে ভোটের তফসিল। কারণ ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত শিডিউল কর্মসূচি রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের। ১৩ নভেম্বর খুলনার জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ১৪ নভেম্বর গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি কিছু প্রকেল্পের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। এই আনুষ্ঠানিকতার পর ১৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনাই বেশি। কমিশন থেকেও এমন আভাস পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে এরই মধ্যে তফসিল বিষয়ে অবহিতকরণের কাজ শেষ করে করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা ইসির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য দিচ্ছেন পরামর্শ।
জানা গেছে, কয়েকটি ইস্যুতে আটকে আছে দ্বাদশ নির্বাচনের তফসিলের কার্যক্রম বলে সিইসির বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যে ও ইসির বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন সময়ে নেওয়া উন্নয়ন ও নতুন প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন কার্যক্রম চলছে, যা ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সিডিউল আছে। এ ছাড়া বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর নির্বাচন বর্জনের পাশাপাশি নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে আছে এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো; তাদের নানামুখী চাপ রয়েছে ইসির প্রতি।
ত্রিমূখী এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর চাওয়া-পাওয়াগুলো পর্যবেক্ষণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতিদিনই বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দূতিয়ালি চালাচ্ছে ভারতসহ মোড়ল রাষ্ট্রগুলো। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ৯ নভেম্বর সাক্ষাতের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছিলেন, তফসিল ঘোষণার জন্য আমরা দ্রুত বসব। সেটিও গণমাধ্যমকে জানিয়ে ঘোষণা করা হবে। তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন তারা।
এর আগে গত ৪ নভেম্বর সর্বশেষ সংলাপেও অংশ না নেওয়া বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে প্রধান নিবাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, আপনারা নির্বাচনে এসে সফল হোন আপনাদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে শুভ কামনা। আমাদের রাজনীতিতে এসে নির্বাচন নিয়ে বিদেশিরা অনেক পরামর্শ দিচ্ছেন। অথচ আপনারা দিতে পারছেন না। আপনারাও তো রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এই দায়িত্বগুলো নিতে পারতেন। বারংবার চেষ্টা করতে পারতেন। নিজেদের মধ্যে সংলাপ করে একটা অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারতেন।
এদিকে, নিরপক্ষে সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে হরতাল, অবরোধ ও ঝটিকা মিছিলের মধ্যে কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। স্পর্শকাতর দিনগুলোতে স্থগিত রাখছে অবরোধের কর্মসূচি। তবে তফসিল না হওয়া পর্যন্ত দলটি এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা রয়েছে। অপরদিকে বিএনপির সুরে কথা বলছে সমমনা ইসলামী দলগুলো। ‘দেশের স্বার্থে’ কমিশনকে তফসিল ঘোষণা না করার আহ্বান জানিয়েছে পাঁচ দলীয় রাজনৈতিক মোর্চা ‘সমমনা ইসলামী দলগুলো’। তারা বলেছে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে পরিস্থিতি আরো বিপজ্জনক হতে পারে। বৃহস্পতিবার রাতে পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমমনা ইসলামী দলগুলোর বৈঠকে এই অভিমত জানানো হয়। শুক্রবার বিকেলে বিবৃতি দিয়ে এই অভিমত গণমাধ্যমকে জানানো হয়। পাঁচ দলীয় রাজনৈতিক মোর্চার শরিক দলগুলো হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, মুসলিম লীগ (বদরুদ্দোজা আহমেদণ্ডকাজী আবুল খায়ের) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। এর মধ্যে মুসলিম লীগ ছাড়া বাকি চারটি দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। এছাড়া নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় আখ্যা দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সভা হয়েছে। তবে দুপক্ষের মধ্যে এ ইস্যুতে ঐকমত্য হয়নি বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় বলে মন্তব্য করে আসছে। তাছাড়া বাংলাদেশের ‘সংবিধান অনুযায়ী’ আসন্ন নির্বাচন দেখতে চায় বলে রাষ্ট্রদূত ওয়েন। তার এ মন্তব্যের জবাবে বিএনপি একটা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তাতে বলেছে, চীনা রাষ্ট্রদূত যা বলেছেন তা জনগণের ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নয়। এ বিষয়ে একটি ব্যাখ্যাও দিয়েছে দলটি।
দেশীয় রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে চাপ এবং বিদেশি রাষ্ট্রের নানা ধরনের আহ্বান সত্ত্বেও সংবিধানের মধ্যে থেকে নির্বাচন করার পক্ষে ইসি। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান বলেছেন, তারা এমন একটা নির্বাচন উপহার দেবেন যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে এদিকে,এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শনিবার প্রশাসন-পুলিশের সঙ্গে ইসির প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। এ প্রশিক্ষণেও যেকোনো মূল্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার ওপরে তাগিদ এসেছে। জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিব উভয়ই সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন না হলেও তাদের দু ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করা বিষয়ে অঙ্গীকার করা হয়েছে ওই প্রশিক্ষণে।
ইসি সূত্র বলছে, অমোচনীয় কালির কলম ও স্ট্যাম্প প্যাড ছাড়া নির্বাচনের অন্যান্য সামগ্রী জেলা পর্যায়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে এ দুটি সামগ্রী পৌঁছামাত্রই স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় চলে যাবে বলে। এছাড়াও আগামী নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে কারা দায়িত্ব পালন করবেন, তা এখনো ঘোষণা করেনি ইসি। সাধারণত জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়। গত বছর ইসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে বিশিষ্টজনদের অনেকে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
ইসির একটি সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনে কাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হবে, তা নিয়ে কমিশনের ভেতর মত ভিন্নতা রয়েছে। ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা করার পক্ষে মত জোরালো। অবশ্য এই মতের বিপক্ষে একটি যুক্তি কমিশনে তোলা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে রিটার্নিং কর্মকর্তা কাদের করতে হবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা নেই। কিন্তু আইনের একটি ধারায় বলা আছে, ভোটের তারিখের প্রজ্ঞাপন (তফসিল) প্রকাশের পর থেকে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী ১৫ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত বিভাগীয় কমিশনার, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার (ডিসি), পুলিশ সুপাররা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্বাচনের জন্য সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করবেন। আইনে বলা হয়েছে, ডিসিরা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সহায়তা করবেন। অর্থাৎ আইনের স্পিরিট বা চেতনা হলো ডিসিরা রিটার্নিং কর্মকর্তা হবেন না।