ঢাকাবুধবার , ১ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

নির্বাচন নিয়ে কোনো সংলাপ হবে না -প্রধানমন্ত্রী

জয়পত্র ডেস্কঃ
নভেম্বর ১, ২০২৩ ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আন্দোলন করে বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন থামাতে পারবে না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০১৩-তেও পারেনি, ’১৮-তেও পারেনি, এবারও পারবে না। তিনি বলেন, নির্বাচন হবে এবং সময়মতোই হবে। কে চোখ রাঙাল আর কে চোখ বাঁকাল, ওটা নিয়ে আমরা পরোয়া করি না। ইনশাআল্লাহ নির্বাচন যথাসময়ে হবে। তারা তো চাচ্ছে এটাই (নির্বাচন বন্ধ করা), সেটা করতে পারবে না।
সদ্য সমাপ্ত বেলজিয়াম সফর নিয়ে মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। জনগণ ওদের সঙ্গে নেই। জনগণকে কষ্ট দিয়ে রাজনীতি হয় না। রাজনীতি তো জনগণের জন্য। বিএনপি একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এরা (বিএনপি) আসলে নির্বাচনই চায় না। আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, কার সঙ্গে সংলাপ, খুনিদের সঙ্গে কীসের সংলাপ, কীসের আলোচনা। খুনিদের সঙ্গে সংলাপ, এটা বাংলাদেশের জনগণও চায় না। সে (পিটার হাস) বসে ডিনার করুক, আলোচনা করুক। নির্বাচনকালীন সরকার ২০১৮ সালের মতোই হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া, ইন্ডিয়া, কানাডা বা ইংল্যান্ডে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেভাবে নির্বাচন হবে। শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৮-তে সেভাবেই হয়েছিল। ২০১৪-তে কয়েকজন মন্ত্রী অন্যান্য দল থেকে নিয়োগ করেছিলাম। এরপর ২০১৮ সালে আর সেই পদ্ধতি করি নাই। যেটা অন্যান্য দেশে হয়, এবারও সেভাবেই হবে। সরকার থেমে থাকবে না। সরকারের দৈনন্দিন যে কাজগুলো, রুটিন কাজগুলো করতে হবে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার কে হবে না হবে, সেদিকে আমরা যাচ্ছি না। যেসব দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে সেভাবেই করা হবে। অর্থাৎ সে সময় আমরা যারা থাকব, ওই আমরাই নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে আমাদের রুটিন ওয়ার্ক, দায়িত্ব পালন, দৈনন্দিন কাজকর্ম করব। যাতে সরকার অচল হয়ে না যায়, সেটা আমরা করব। নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার আকার কেমন হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সেটা যখন যে রকম হবে দেখা যাবে। আকার ছোট করলে যেটা সমস্যা হয় ২০১৪ সালে দেখেছি অনেক মন্ত্রণালয়ের কাজ আর হয় না। কাজগুলো বাধাগ্রস্ত হয়ে যায়। কাজগুলো যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, আমাদের উন্নয়নের ধারাটা যাতে অব্যাহত থাকে। আমাদের সেটাই প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, আমাদের আরপিও অনুযায়ী যখনই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হবে এবং নমিনেশন সাবমিট হবে তখন থেকে আর সরকারি সুযোগ-সুবিধা মন্ত্রীরা ব্যবহার করতে পারবে না। একজন প্রার্থী হিসেবেই ভোট চাইতে হবে।
বিএনপি আবার প্রমাণ করেছে তারা সন্ত্রাসী দল : ২৮ অক্টোবর সহিংসতার মাধ্যমে বিএনপি সন্ত্রাসী সেটা আবার প্রমাণ হয়েছে বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সন্ত্রাসী। বিএনপি সন্ত্রাসী দল, সেটা তারা আবার প্রমাণ করেছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন। সন্ত্রাসীদের কীভাবে শিক্ষা দিতে হয়, সেভাবে দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘তারা এখানে সেখানে চোরাপথে গিয়ে একেকটা গাড়ি পোড়াচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করা ও গ্রেপ্তার করে যথাযথ শাস্তি দেওয়া উচিত। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আশা করব, এগুলো তারা বন্ধ করবে। না করলে পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, আমি চট্টগ্রামে যখন বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন করছি, তখন তারা ঢাকায় মানুষের ওপর হামলা করছে। পুলিশের ওপর হামলা করছে। মানুষ খুন করছে। তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আর সাংবাদিক। লালমনিরহাটে যুবলীগের একজনকে পুড়িয়েছে। এভাবে হত্যা করা, মানুষের সম্পদ নষ্ট করার কর্মকাণ্ডই তো তাদের চরিত্র। এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কার সঙ্গে সংলাপ? বিরোধী দলটা কে? সংসদীয় রীতিতে সংসদের বিরোধী দল হলো প্রকৃত বিরোধী দল। এর বাইরেরগুলো দল হিসেবে গণ্য হয় না। আমেরিকাও হয় না। ট্রাম্পের দলকে তারা বিরোধী দল হিসেবে দেখে। যদিও আমরা তাদের সিস্টেমে না। আমরা ওয়েস্ট মিনিস্টার টাইপ ফলো করি। সেখানে ওইটি বিরোধী দল বলে।’
তিনি বলেন, ‘এই যে মানুষগুলো হত্যা করা হলো, তাকে (পিটার হাস) প্রশ্ন, যখন উপনির্বাচনে ঘটনা ঘটেছিল, হিরো আলমকে কেউ মেরেছিল। তারা সে ঘটনায় বিচার দাবি করেছিল? এখন যখন পুলিশকে হত্যা করল, এত সাংবাদিকের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে, তখন তার বিচার দাবি করেনি কেন? যারা উন্নয়ন ধ্বংস করতে পারে তাদের সঙ্গে ডায়ালগ? সে (পিটার হাস) বসে ডিনার খাক, সে বসে ডায়ালগ করুক। এটা আমাদের দেশ, স্বাধীনতা এনেছি রক্ত দিয়ে। এ কথাটা মনে থাকা উচিত। ওই খুনিদের সঙ্গে ডায়ালগ বাংলাদেশের মানুষও চাচ্ছে না। বাংলাদেশের মানুষ তাদের ঘৃণা করে। বিএনপি-জামায়াতকে ঘৃণা করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য। যেটুকু অর্জন করেছিল তারা, সেটা আমরা সুযোগ করে দিয়েছিলাম, সেটা তারা হারিয়েছে।’
সে ভাড়া খাটতে আসছিল : বিএনপির কার্যালয়ে কথিত মার্কিন নাগরিকের সংবাদ সম্মেলন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের দরজা খোলা থাকে যে কেউ আসতে পারে। যে কেউ কথা বলতে পারে। কিন্তু যে এসে বসল! যেভাবে খাতির তর্জমা করে বসানো হলো। আর যেভাবে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হলো এবং যত মিথ্যা তথ্য দিয়ে গেল। বোধ হয় নিজেদের কিছু ইমেজ বাড়ানোর জন্য এ ধরনের ভাড়াটে লোক নিয়ে আসছে। তাকে যখন ধরা হলো এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো, তখন আসল কথা বেরিয়ে এলো। সে ভাড়া খাটতে আসছিল। তিনি মার্কিন নাগরিক এটা মার্কিনদের দেখতে হবে। আর কথায় কথায় আমাদের স্যাংশন দেয়। আমার জনগণ আছে আর আমার দেশ আছে। আমি এটা নিয়ে আছি।’
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আলোচনার (মজুরি বৃদ্ধি) পর্যায়ে হঠাৎ তাদের (পোশাকশ্রমিক) মাঠে নামানো এবং সেখানে আবার জ্বালাও পোড়াও করা, কোনো কোনো কারখানায় আগুন দেওয়া। কারখানা দিয়ে রুটি-রুজি আসে, সেই কারখানা ধ্বংস করলে তোমাদের চাকরিটা থাকবে কোথায়? সব তো গ্রামে ফিরে যেতে হবে। এটা তো বাস্তবতা। ১৪ বছরের মধ্যে তিন দফা তাদের মজুরি বাড়িয়ে ৮ হাজার ৩০০ টাকা করেছি। তাদের সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা করেছি। তাদের টিফিনের ভাতা, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং সব রকমের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। করোনাকালীন যখন মালিকরা বেতন দিতে পারছে না, সেই বেতন আমি সরকারের পক্ষ থেকে মালিকদের হাতে না দিয়ে প্রতিটি গার্মেন্ট শ্রমিকের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সব টাকা তাদের হাতে পৌঁছে দেই।
শেখ হাসিনা বলেন, জিনিসের দাম, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, এটা তো সবাই জানে। আমাদের প্রচেষ্টায় এক কোটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। বিশেষ পারিবারিক কার্ড করে দিয়েছি, যাতে স্বল্প মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের আমন্ত্রণে ২৫-২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে যোগ দিতে গত ২৪ অক্টোবর ব্রাসেলসে যান প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে ২৭ অক্টোবর দেশে ফেরেন তিনি।