ঢাকাশনিবার , ২৩ জুলাই ২০২২
  • অন্যান্য

ঈশ্বরদীতে চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের দাবি জানালেন মিল মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ২৩, ২০২২ ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঈশ্বরদীতে নির্মানাধীন আর.বি রাইস ব্রান ওয়েল মিলের মালিকের নিকট চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শনিবার (২৩ জুলাই) বিকাল ৫টায় পৌর এলাকার ইস্তায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্মানাধীন আর.বি রাইস ব্রান ওয়েল মিলের মালিক মধু বিশ্বাস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ ওয়েল মিল নির্মাণ কাজ শুরুর তিন মাস পর থেকে স্থানীয় একটি স্বার্থন্বেষী মহল নানাভাবে বাধা ও ষড়যন্ত্র করে আসছে। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মনীতি মেনে এ মিলের নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। কিন্তু স্বার্থন্বেষী মহলটি এ নির্মানাধীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,পৌরসভার মেয়র, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পত্র দিয়ে কাজ বন্ধের দাবি জানান।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তিনজন বীরমুক্তিযোদ্ধা ও দু’জন রাজনৈতিক নেতার সমন্বয়ে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেন। সরেজমিনে তদন্ত শেষে শর্তসাপেক্ষে এ তদন্ত কমিটি ওয়েল মিল স্থাপনের সম্মতি জ্ঞাপন করেন। নির্মানাধীন মিলের ভবন নির্মাণ কাজ প্রায় ৫০ ভাগ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে স্বার্থন্বেষীরা আবার নতুন ষড়যন্ত্রের মেতে উঠেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মিথ্যা তথ্য ও ভুল বুঝিয়ে এবং কাউকে কাউকে হুমকি ধামকি দিয়ে এ মিল নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্য শুক্রবার (২২ জুলাই ২০২২) মানববন্ধনে আসতে বাধ্য করে। এ মানববন্ধন থেকে আমাকে মারধর ও এ মিল ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, নির্মানাধীন আর.বি রাইস ব্রান ওয়েল মিলের উৎপাদিত পণ্য শতভাগ বিদেশে রপ্তানী করা হবে। এতে দেশে বৈদেশিক আয় বাড়বে। পাশাপাশি প্রায় দুই শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু কিছু দুস্কৃতকারী পবিত্র ঈদুল আযহার পূর্বে আমার নিকট পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তারা বলেন, এ চাঁদা না দিলে ঈদের পর এখানে মিল স্থাপনে বাধা দেয়া হবে। আমি তাদের অন্যায় আবদার মেনে নেয়নি। তারা মানববন্ধনের নামে মিল নির্মাণের বাধা ও আমাকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। মানববন্ধনে তারা নানান মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। তারা বলেছে, এখানকার বর্জ্যে পরিবেশ দূষিত হবে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া। অন্যান্য মিলের মতো বর্জ্য অপসারণে এখানে ম্যানুয়েল পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে না। উন্নত বিশ্বের অত্যাধুনিক জিরো লিকুইড ওয়াটার পদ্ধতি এখানে ব্যবহার করা হবে। এতে পানির ব্যবহার খুব কম হবে। ব্যবহৃত ওই পানি পুনরায় পরিশোধন করে ব্যবহার করা হবে।

এখানে বর্জ্য বলে কিছু থাকবে না। কালো ধোঁয়া বা বাতাসে ছাই উড়ার কোন সুযোগ নেই। কালো ধোঁয়া নিরসনের জন্য আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এতে ধোঁয়া সম্পূর্ণভাবে দুষণমুক্ত হবে। মিলের ছাই একটি গোডাউনে রাখা হবে। নিদিষ্ট সময়ের পর তা বস্তাবন্দি করে বা ট্রাক পর্দা দিয়ে মুড়িয়ে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হবে। এতে পরিবেশের বিন্দুমাত্র ক্ষতির কোন সম্ভাবণা নেই। এলাকাবাসীকে মিথ্যা তথ্য ও ভুল বুঝিয়ে ওই দুস্কৃতকারীরা নিজেদের স্বার্থহাছিলের চেষ্টা করছেন। আমি এলাকাবাসীকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, আমি এ এলাকার সন্তান। আমি নিজেও এ এলাকায় বসবাস করি। কোন ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় যাতে না ঘটে সেজন্য সচেষ্ট রয়েছি। অত্যাধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির মাধ্যমে এ ওয়েল মিল নির্মিত হচ্ছে। তাই পরিবেশ বিপর্যয়ের কোন ধরনের আশংকা নেই। কারো মিথ্যা প্রলোভনে কান না দিয়ে এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় আপনারা সহযোগিতা করুন।

মধু বিশ্বাস আরো বলেন, এই স্বার্থন্বেষী মহল ইতিপূর্বেও আমার রোহান অটো রাইস মিল নির্মাণের পর পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে আমাকে হয়রানী করেছে। অধিদপ্তরের ঢাকা ও বগুড়া কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে রাইস মিল পরিদর্শন করে মিল চালানোর অনুমতি অব্যাহত রেখেছে। এই স্বার্থন্বেষী মহল এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও এলাকার উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে বাধা প্রদান করে আসছে। এসব স্বার্থবাদী, দুস্কৃতকারী চাঁদাবাজ ও মারধরের হুমকিদাতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে সলিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা, বীরমুক্তিযোদ্ধা আফতাব খান, বীরমুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, বীরমুক্তিযোদ্ধা মসলেম উদ্দিন, বীরমুক্তিযোদ্ধা নূর আলী, ব্যবসায়ী ঈদ্রিস আলী মন্ডল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক মাসুদ রানা, পৌরসভার কাউন্সিলর ইউসুফ আলী প্রধানসহ স্থানীয় শত শত ব্যবসায়ী এসময় উপস্থিত ছিলেন।