ঢাকাশুক্রবার , ৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা নামল ৭ ডিগ্রির ঘরে

জয়পত্র ডেস্কঃ
জানুয়ারি ৯, ২০২৬ ৪:০৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি ।। ৯ জানুয়ারি ২০২৬, উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার পাবনার ঈশ্বরদীতে টানা শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহ জুড়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। পদ্মা-যমুনা নদীবেষ্টিত পাবনা ও ঈশ্বরদীতে শীত জেঁকে বসেছে। ঘন কুয়াশা এবং হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন কাহিল হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টা ধরে সূর্যের দেখা নেই। দুপুর পর্যন্ত প্রকৃতি ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকছে। এদিকে তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ নিচে নামছে। ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা। আজ শুক্রবার ঈশ্বরদীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি ও বুধবার ঈশ্বরদীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত দুই দিন ধরে ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হক রঞ্জন এর প্রদানকৃত তথ্য অনুযায়ী,বাতাসের আদ্রতা ছিল শতভাগ এবং ঘণ্টায় ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার বেগে হিমেল বাতাস প্রবাহিত হয়। হিমালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
জানা গেছে,রাত গভীর হলেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে সড়ক ও মহাসড়ক। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা এতটাই ঘন হয়ে ওঠে যে; কয়েক হাত দূরের কিছুই দেখা যায় না। ফলে মহাসড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। শৈত্যপ্রবাহ ও তীব্র ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরা। জীবিকার তাগিদে কনকনে শীত উপেক্ষা করেই সকালে কাজে বের হতে হচ্ছে তাদের।
গত কয়েক দিন ধরে দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিললেও কাঙ্ক্ষিত উষ্ণতা পাওয়া যাচ্ছে না। আজ (শুক্রবার) ভোর থেকেই জেলার গ্রাম ও শহরের সড়ক-মহাসড়ক ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে; চালকদের ধীরগতিতে যানবাহন চালাতে দেখা গেছে। টানা শীত ও কুয়াশার প্রভাবে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকার দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন। কনকনে শীতের কারণে অনেকেই ভোরে কাজে বের হতে পারছেন না। শীত নিবারণের জন্য ভোর থেকে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন স্থানে খড়কুটো, শুকনো পাতা ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে অনেককে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুয়ায়ী দেশের ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে দেয়া আবহাওয়া অফিসের দেওয়া নিয়মিত বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে । সারাদেশের রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।