জয়পত্র ডেষ্ক ।। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ড (ইউকম) নিশ্চিত করেছে যে, ‘মারিনেরা’ (সাবেক বেলা-১) নামের এই জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে কয়েক সপ্তাহ ধরে জাহাজটিকে নজরে রেখেছিল মার্কিন কোস্টগার্ডের বিশেষ জলযান ‘মনরো’। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
মার্কিন বাহিনীর এই দুঃসাহসিক অভিযান এমন এক সময়ে ঘটল যখন রাশিয়া এই জাহাজটি রক্ষায় সাবমেরিনসহ একটি শক্তিশালী নৌবহর পাঠিয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ছিল যে জাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে যেকোনো মূল্যে জব্দ করতে মরিয়া ছিল ওয়াশিংটন। গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাগামী সব তেলবাহী জাহাজে অবরোধ দেওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, এটি তারই সরাসরি প্রতিফলন।
আটলান্টিকে রুশ জাহাজ জব্দের রেশ কাটতে না কাটতেই ক্যারিবীয় সাগর থেকে ‘এম/টি সোফিয়া’ নামের আরও একটি তেলবাহী জাহাজ আটকের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড। এই জাহাজটিকে ‘রাষ্ট্রহীন’ এবং ‘ডার্ক ফ্লিট’-এর অংশ বলে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত অবৈধ কর্মকাণ্ড এবং নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে তেল পাচারের অভিযোগে এই অভিযান চালানো হয়। এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথে মার্কিন বাহিনীর এই জয়জয়কার ওয়াশিংটনের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির জানান দিচ্ছে।
রুশ পতাকাবাহী জাহাজ জব্দের ঘটনাকে ভেনেজুয়েলা সরকার ‘আন্তর্জাতিক লুঠতরাজ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়া তাদের নৌবহর থাকা সত্ত্বেও জাহাজটি রক্ষা করতে না পারায় এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন ফেডারেল আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র এবং নবগঠিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ এই পুরো অভিযানে সমন্বয় করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘শিপিং ব্লকড’ নীতি মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি নৌ-সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলল।
