ঈশ্বরদীতে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে বিএনপি নেতা বিরু মোল্লাকে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দুই নলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার।
তিনি জানান, ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের আব্দুল করিমের পরিত্যক্ত একটি টিনের ঘরে অভিযান চালিয়ে পুরোনো জিনিসপত্র ও খড়ি রাখার স্থান থেকে লাল রঙের নেট দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় ৬ রাউন্ড গুলিসহ একটি দুই নলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান আসামি জহুরুল মোল্লা পালানোর সময় অস্ত্রটি ওই পরিত্যক্ত ঘরে ফেলে যায়।
উল্লেখ্য, নিজের জমিতে ইটভাটার জন্য মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৭ ডিসেম্বর ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বিরু মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই জহুরুল মোল্লাকে প্রধান আসামি করা হয়।
এর আগে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে দুটি অস্ত্র ও ৩১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বুধবার হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিরু মোল্লা জেলা বিএনপির অনুসারী ছিলেন। অপরদিকে, স্থানীয়দের একাধিক সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি জহুরুল মোল্লা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঈশ্বরদী উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে একাধিক এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
