নিজস্ব প্রতিনিধি ।। ঐতিহাসিক ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন ও ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে চিত্রা,সুন্দরবন,বেনাপোলসহ বেশ কিছু আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি বাতিল করায় তীব্র জনদুর্ভোগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে যোগাযোগে অবহেলিত ঈশ্বরদীবাসী এবার রাস্তায় নেমে আসে।
১ নভেম্বর শনিবার সকাল ১১টায় ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশন প্রাঙ্গণে ঈশ্বরদীর সর্বস্তরের জনসাধারণের উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এই মানববন্ধনে শহরের বিভিন্ন পেশাজীবী,রাজনৈতিক,সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। প্ল্যাটফর্মজুড়ে “ঈশ্বরদীকে অবহেলা করা বন্ধ করুন”, “ট্রেন বন্ধ নয়, ট্রেন চালু চাই”, “রেলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন”—এমন নানা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে শত শত মানুষ অবস্থান নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঈশ্বরদী বাংলাদেশের রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে ঈশ্বরদী শুধু একটি স্টেশন নয়, বরং এটি দেশের রেল ইতিহাসের অংশ। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক আন্তঃনগর ট্রেন ঈশ্বরদী জংশন থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি অনেক ট্রেন ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনেও আর যাত্রাবিরতি করে না। এতে ঈশ্বরদী, পাকশী, রূপপুর ও আশপাশের কয়েক উপজেলার মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একসময় ঈশ্বরদী ছিল দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলওয়ে জংশন। কিন্তু আজ পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্তে এই ঐতিহ্যবাহী স্টেশনের গুরুত্ব ধ্বংস করা হচ্ছে। এটি ঈশ্বরদীবাসীর প্রতি সুস্পষ্ট অবহেলা ও অবিচার।”
তারা অবিলম্বে ঈশ্বরদী জংশন থেকে তুলে নেওয়া সকল আন্তঃনগর ট্রেন পুনরায় চালুর দাবি জানান। পাশাপাশি ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে সব আন্তঃনগর ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান শাহিন, দৈনিক সমকালের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি সেলিম সরদার, দৈনিক বীর বাংলার সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান টিপু, সিপিবি নেতা আহসান হাবিব, শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বাবু সহ অনেকে।
সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “রেল কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে বৃহত্তর গণআন্দোলনের মাধ্যমে ঈশ্বরদীবাসী তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাজপথে নামবে। ঈশ্বরদীকে অবহেলা করা আর সহ্য করা হবে না এবং এসময় তারা ”ট্রেনের যাত্রাবিরতি পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
