আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দেশে ফিরেছেন।রবিবার (৮ জুন) দিনগত রাত দেড়টায় তিনি থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে (টিজি-৩৩৯) ঢাকায় আসেন।
এ সময় ফ্লাইট থেকে হুইল চেয়ার দিয়ে তাকে নামিয়ে আনা হয়। রাত পৌনে ৩টার দিকে বাংলানিউজকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিমানবন্দরে অবতরণের পর রাত ১টা ৪৫ মিনিটে তিনি ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যান। সেখানে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন বলে জানান ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ।
এর আগে ৮ মে রাত ৩টা ৫মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের টিজি ৩৪০ নম্বর ফ্লাইটে চিকিৎসার জন্য ব্যাংককের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন আবদুল হামিদ। গত ১৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ সদর থানায় আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ওবায়দুল কাদেরের নামও রয়েছে। আবদুল হামিদের দেশ ছাড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরে দেশত্যাগের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পুলিশের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেদিন।
ওরা এখন কোথায় ? যারা বলছিলো যে উনি পালিয়েছেন সাবেক মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ এইমাত্র থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে রাত ১:২০-এ তিনি ঢাকায় পৌঁছেছেন। সঙ্গে তাঁর শ্যালক ও ছেলে রয়েছেন। আব্দুল হামিদই এমন এক আওয়ামী লীগ নেতা,যিনি জীবনের এই কঠিন সময়ে মুখ খোলার সাহস দেখিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন, তবুও নিশ্চিত করেছেন যেন জীবনের শেষ দিনগুলো দেশের মাটিতেই কাটে।
তিনি জেলেও যেতে প্রস্তুতি নিয়েছেন, শুধু যেন দেশের মাটিতে তাঁর কবর হয়। নিজের শেষ শক্তি ও সংকল্প দিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন। এই সাহস,এই দেশপ্রেম,এই আত্মমর্যাদা—এগুলো আজকের দিনে খুবই বিরল।
