নিজস্ব প্রতিনিধি ।। ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়াতে সিএনজি স্ট্যান্ড দখল ও চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি দুই গ্রুপের ব্যাপক মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম (৪৫) গুলিবিদ্ধ হয় । মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ত্রিমহনী (পাবনা – রাজশাহী,রংপুর- খুলনা) গোলচত্ত্বর সিএনজি স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম ও ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক রিপন গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান,কয়েক দিন ধরে এই বিবাদ চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় দফায় দফায় গুলাগুলি,ধাওয়া পাল্টাধাওয়া,দলীয় কার্যালয় ভাংচুরসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সর্বশেষ ১৩ এপ্রিল রবিবার দুপুর ২টার দিকে ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম দাশুড়িয়া ট্রাফিক মোড়ে নিজ অনুসারীদের নিয়ে অবস্থান করছিলেন, এসময় রিপন তার দলবল নিয়ে মনোয়ারকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এবিষয়ে মনোয়ার গ্রুপের সদস্য বিপ্লব মোল্লা জানান,রিপন সন্ত্রাসী কায়দায় আমাদের নেতার উপর গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফ জানান, বিবাদমান দুটি গ্রুপই আমাদের সঙ্গে রয়েছে।
দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ সুলভ মালিথা জানান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক রিপন তার ভাই রকুসহ ৪টি সিএনজি যোগে এসে দুপুরে দাশুড়িয়া ট্রাফিক মোড়ে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মনোয়ারুল ইসলামের উপর হামলা চালায়। সে সময় রিপন কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে ও কুপিয়ে তাকে মারাত্মক জখম করে। তিনি জানান, পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে তার অবস্থা অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব সামসুদ্দিন আহমেদ মালিথা জানান, বিবাদমান দুটি গ্রুপই হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী তাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে।
এবিষয়ে ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার দুই সিএনজি ড্রাইভারের ঝামেলা নিয়ে রকু প্রামানিকের সঙ্গে বিপুল মোল্লার মারামারি ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার রেশ ধরে এই ঘটনা ঘটে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। এই মুহুর্তে সেখানে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক আছে,অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘গত পরশুদিন লেগুনা আর সিএনজি ড্রাইভারদের নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল, সেই ঝামেলা সমাধান করতে গিয়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সেই ঝামেলা মিটমাট করেও দিয়েছিলাম। কিন্তু আজকে আবার এই গুলির ঘটনা ঘটে গেল। এখন প্রশাসনের মাধ্যমে এসব ঘটনায় যারাই জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
