ঈশ্বরদীর সাড়া ইউনিয়নের আসনা গ্রমের কাজি পাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১৪টি ঘর ভস্মিভূত হয়ে গৃহবধূ ও ১৭ টি ছাগল ও অর্ধশত হাঁস মুরগি মারা গেছে । একই সাথে নগদ দুই লক্ষ টাকা ভস্মিভুত হয়েছে। বুধবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আসনা গ্রামের কাজীপাড়ায় অগ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকান্ডে নিহত আজেলা বেগম (৪১) নামের গৃহবধু ওই এলাকার মোঃ জিয়ারুল কাজীর স্ত্রী এবং তিনি চার সন্তানের জননী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের স্বজনরা জানান, সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে নিহত গৃহবধুর প্রতিবেশি আব্দুর রহমান কাজীর বাড়িতে বৈদ্যুতিক শকসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত ঘটে। সেখান থেকে আগুন নিহত গৃহবধুর বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় নিহত গৃহবধু ঘরের মধ্যে থাকা তার ছোট ছেলে আটকিয়ে থাকার সন্দেহে ও ঘরে থাকা নগদ টাকা বের করতে গিয়ে আটকিয়ে পড়েন। এতে তিনি অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে ঘরের মধ্যেই মারা যান। একই সঙ্গে তাদের ১২ টি ছাগলও অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে মারা যায়। এসময় অপর প্রতিবেশি মহাবুল ইসলামের ৫ টি ছাগলও অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে মারা যায়।
অগ্নিকান্ডে বসতবাড়ি পুড়ে ভস্মিভুত হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ অন্যান্যরা হলেন- আব্দুর রহমান কাজী ও তার দুই ছেলে আব্দুর রকিব কাজী এবং রতন আলী কাজী, প্রতিবেশি মাহবুব কাজী ও মহাবুল ইসলাম। ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিলিভ ডিফেন্সের ইনচার্জ মীর আমিরুল ইসলাম জানান, আগুনের সুত্রপাতের সঠিক কারণ জানা সম্ভব হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শকসার্কিট কিংবা বাচ্চারা আগুন নিয়ে খেলার সময় অসাবধানতাবশত আগুন লাগতে পারে । তিনি আরও জানান, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ও লালপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহীদুল ইসলাম শহীদ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের স্বজনদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তারা অভিযোগ দিলেই মরদেহ মর্গে প্রেরণ করা হবে। তবে পুরো বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবীর কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নিহতের পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোতে আর্থিকসহায়তাসহ খাদ্য সামগ্রি সহযোগিতা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
