ঢাকারবিবার , ২ মার্চ ২০২৫
  • অন্যান্য

সেনাপ্রধান কোনো কথা না বুঝে বলেননি শ্রম উপদেষ্টা

জয়পত্র ডেস্কঃ
মার্চ ২, ২০২৫ ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান মানুষের মুখের উপর স্পষ্ট কথা বলার মতো লোক বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন ও শ্রম উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘সেনাপ্রধান কোনো কথা না বুঝে বলেননি।’
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেন এ মন্তব্য করেন। গত মঙ্গলবার সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের প্রত্যাশা জানিয়ে ‘মারামারি-কাটাকাটি আর কাদা ছোড়াছুড়ি’ বন্ধ করার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তা না হলে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ‘বিপন্ন হবে’ বলে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘আমি আজকে বলে দিলাম, নইলে বলবেন সতর্ক করিনি।’
উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সেনাপ্রধান আমার জন্য অনেক উঁচু স্তরের লোক। তিনি একটি বাহিনী চালাচ্ছেন। তিনি কোনো কথা না বুঝে বলেননি। আমি যতটা তাকে চিনি, ভেরি স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড ম্যান। ‘যা বলার মানুষের মুখের উপর বলার মতো লোক। তিনি কী বলেছেন, না বলেছেন সেটার ব্যাখ্যা আমি দিতে পারব না। তিনিই দিতে পারবেন।’
ক্ষমতার পালাবদলের পর সংস্কার উদ্যোগের মধ্যেই নির্বাচন নিয়ে সরব হয়ে উঠেছে বিএনপি। দলটি প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের পক্ষে। অন্যদিকে সংস্কার আগে করার পক্ষে মত জামায়াতে ইসলামী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের। মঙ্গলবার ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন সেনাপ্রধান। একটি ‘সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘তার আগে যে সমস্ত সংস্কার করা প্রয়োজন অবশ্যই সরকার সেদিকে খেয়াল করবেন। আমরা যৌথবাহিনী ড. ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেছি।’
ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাও ‘একমত’ হয়েছেন দাবি করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘প্রথমেই বলেছিলাম ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচনের কথা। আমার মনে হয়, সরকার সেদিকেই ধাবিত হচ্ছে। ড. ইউনূস যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দেশটাকে ইউনাইটেড রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। তাকে আমাদের সাহায্য করতে হবে, তিনি যেন সফল হতে পারেন। ‘আসেন আমরা নিজেদের মধ্যে মারামারি-কাটাকাটি না করে দেশ-জাতি যেন একসঙ্গে থাকতে পারি সেদিকে কাজ করি। আমাদের মধ্যে মতের বিরোধ থাকতে পারে, চিন্তা-চেতনার বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু দিনশেষে যেন আমরা সবাই দেশ ও জাতির দিকে খেয়াল করে সবাই যেন এক থাকতে পারি।’
এদিকে আগামী ৯ মার্চ থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের লে অফ করা ১৪ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ শুরু হবে। এ পাওনা পরিশোধে সরকারকে খরচ করতে হবে ৫২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। একই সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। আজ শুক্রবার থেকে বেক্সিমকো শিল্প পার্কের ১৪টি প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।
শ্রম উপদেষ্টা জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ৩২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা আর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কেন্দ্রীয় তহবিলের বিভিন্ন হিসাব থেকে দেওয়া হবে ২০০ কোটি টাকা। বেক্সিমকো গ্রুপের পাওনাদারদের মধ্যে শ্রমিক রয়েছেন ৩১ হাজার ৬৭৯ জন। আর কর্মচারী হচ্ছেন ১ হাজার ৫৬৫ জন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বেক্সিমকো শিল্প পার্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এই ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। এ কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ ব্যাংক ও অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতিনিধিসহ বেক্সিমকো লিমিটেডের রিসিভার। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করবেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান।
শ্রম উপদেষ্টা জানান, আগামীকাল শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেক্সিমকো শিল্প পার্কের ১৪টি প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হবে। ৯ মার্চ থেকে বেক্সিমকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
শ্রম উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, বেক্সিমকো শিল্প পার্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ২০০৮-২০২৪ পর্যন্ত জনতা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ প্রদানের জন্য দায়ী ও জড়িত কর্মকর্তা, ব্যাংকের বোর্ড সদস্য, কোম্পানি বোর্ড সদস্য, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ (বিএসইসি) সংশি¬ষ্ট অন্য সবার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, ঋণ প্রদানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যেন দেশের বাইরে যেতে না পারেন, সে জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হবে।
বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান গত ১৩ আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২৯ আগস্ট সা