গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। পরে এক্সকাভেটর দিয়ে বাড়ির সামনের অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। এ ছাড়া সারা দেশে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মুছে ফেলা হয় শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নাম। গত বুধবার রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর এ হামলা-অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুরের ঘটনাগুলো ঘটে। এসব ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৩২ নম্বরের ঘটনা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। সেইসঙ্গে ভারতে থেকে শেখ হাসিনা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্যে জনমনে গভীর ক্রোধ থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
৩২ নম্বর বাড়িতে আগুন-ভাঙচুর : গত বুধবার রাতে বাড়ি ভাঙার পর ৩২ নম্বর বাড়িটির অবশিষ্ট ছিল লিফটের কাঠামো, সীমানাপ্রাচীরের লোহার প্যাঁচানো তার এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে পড়া রড। গতকাল বাড়িটির পেছনে (উত্তর দিকে) ছয়তলা ভবনটিও ভাঙতে দেখা গেছে। ভবনটির ভেতরে থাকা বিভিন্ন ধরণের বই, বই রাখার স্টিলের আলমারি, লিফটের লোহার কাঠামো, গাড়ি রাখার টিনশেড ও কাঠামো, জানালা-দরজার কাঠসহ বিভিন্ন জিনিস ভেঙে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এ সময় শেখ হাসিনার স্বামীর বাড়ি সুধা সদনেও ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।
গতকাল ফজরের নামাজের পর থেকে ভারি যন্ত্র দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ভবনটি ভাঙতে দেখা গেছে। বেলা ১১টার দিকে দেখা যায়, বাড়িটির অনেক অংশই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দুপুর ১টার পর নারী-শিশু, বৃদ্ধসহ একদল মানুষকে দেখা যায় যারা ছয়তলা ভবনটির তৃতীয়-চতুর্থতলায় কাঠ, পড়ে থাকা কাগজপত্র ও বোর্ডে আগুন লাগিয়ে দেয়। ধোঁয়ার অন্ধকারে পঞ্চম ও ষষ্ঠতলা ভাঙচুর করতে থাকেন। পরে সেগুলো রিকশায় নিয়ে যেতে থাকেন।
যে যা পেয়েছেন নিয়ে গেছেন : সরেজমিনে দেখা গেছে, পেছনের ওই ছয়তলা ভবনের ভেতর থেকে যে যা পারছেন নিয়ে বেরিয়ে আসছেন। আর ওই ভবনটি ছাড়াও চারিদিক থেকে হাতুড়ির আঘাতে ভাঙার শব্দ শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। সকালে শেখ মুজিব ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লেখা বই, বইয়ের কার্টন নিয়ে গেলেও বিকেলে জানালা-দরজার লোহা, স্টিল ও কাঠের নানা কাঠামো ভেঙে সব অংশ নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
সারাদেশে অনেক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে : শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙা ছাড়াও গত বুধবার রাতে ধানমন্ডির ৫/এ-তে অবস্থিত শেখ হাসিনার বাড়ি সুধা সদনেও ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সারাদিন আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। কুষ্টিয়ায় বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফের বাড়ি। বরিশালে গত বুধবার রাত থেকে বুলডোজার দিয়ে সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহ এবং প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর বাড়িও ভাঙা হয়। একইসঙ্গে বুধবার রাতেই পিরোজপুরে সাবেক সংসদ সদস্য আউয়াল ও তার ভাই সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ লোকজন। নাটোর শহরে সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের (শিমুল) জান্নাতি প্যালেসে আবারও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর এলাকার গ্রামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয় বৃহস্পতিবার বিকেলে। খুলনায় শেখ হাসিনার চাচা শেখ আবু নাসেরের বাড়ি ‘শেখ বাড়ি’ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ বাড়িতে শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, বিসিবির সাবেক পরিচালক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা শেখ সোহেল উদ্দিনসহ তার পরিবারের সদস্যরা বসবাস করতেন। মূলত ওই বাড়ি থেকেই পদ্মার এপারের আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হতো।
বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ ক্যাম্পাসে মুজিব-হাসিনার নাম ও ম্যুরাল অপসারণ : ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার নামফলক ও ম্যুরাল ভেঙে দেন শিক্ষার্থীরা। ঢাবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নতুন নাম দিয়েছেন ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল’। দুটি হলে থাকা ফলক থেকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে শেখ হাসিনার নাম মুছে ফেলেছেন তারা। এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সব নামফলক, গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন মুছে দেওয়া হয়েছে। রাবির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪ হল’, নির্মাণাধীন শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান হলের পরিবর্তে ‘শহীদ আলী রায়হান হল’, শেখ হাসিনা হলের পরিবর্তে ‘ফাতিমা আল-ফাহরিয়া হল’ ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের পরিবর্তে ‘নবাব ফয়জুন নেসা চৌধুরানী’ নাম দিয়ে ব্যানার ঝুলিয়ে দেন। এ ছাড়া শেখ রাসেল মডেল স্কুলের নাম পরিবর্তন করে ‘রিয়া গোপ মডেল স্কুল’ নাম দেন তারা।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৩টি হল থেকে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম মুছে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাঙা ম্যুরালে ক্ষমতাচ্যুত সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার পোস্টার ঝুলিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে জুতা নিক্ষেপ করা হয়। শেখ পরিবারের নামের ৩টি হলের নাম মুছে দেন শিক্ষার্থীরা। ‘শেখ রাসেল হল’, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল’ এবং ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’ এর নাম রং দিয়ে মুছে ফেলা হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ রাসেলের ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন একদল শিক্ষার্থী। সিলেটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ভাঙচুর হওয়া ম্যুরালটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও নগরের জামাল খান এলাকায় শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়। ময়মনসিংহ নগরের সার্কিট হাউস মাঠসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেন ছাত্র-জনতা। রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কারমাইকেল কলেজে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী কলেজে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ৪টি ভবনের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়কে পাবলিক টয়লেট হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা, ভেঙে দিয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। এ ছাড়া পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শেখ হাসিনা আবাসিক হলের নামফলক এবং সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শেখ রাসেল আবাসিক হলের নামফলক ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
গরু জবাই করে উল্লাস, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় পিটুনি : রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির সামনে নারীসহ দুইজনকে পিটুনি দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় ও আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলায় তাদের পিটুনি দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাড়ির সামনে জুলাই ঐক্যজোট নামের একটি সংগঠন গতকাল বিকেল সোয়া চারটার দিকে গরু জবাই করে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে কালো রঙের একটি গরু পিকআপে করে নিয়ে আসা হয়। গরুর গায়ের দুপাশে পোস্টার লাগানো হয়।
সংগঠনটির মুখপাত্র সাঈদ আহমেদ সরকার জানান, ফ্যাসিবাদের আইকনিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর উৎসব পালনের অংশ হিসেবে ধানমন্ডি ৩২ মুজিবের বাড়ির সামনেই গরু জবাই করা হয়েছে। গরুর মাংস দিয়ে বিরিয়ানি রান্না করা হয়। ধানমন্ডি ৩২-এ আগত সবাইকে বিনামূল্যে বিরিয়ানি খাওয়ানো হয়। গাবতলী পশুরহাট থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় গরুটি কেনা হয় বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের ভেঙে ফেলা বাড়ি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতে দেখা গেছে। তাদের কেউ কেউ কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। অনেকে আবার ‘বত্রিশ না চব্বিশ, চব্বিশ চব্বিশ’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই’, ‘দিলি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক’ এমন বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের পরিস্থিতি দেখতে এসেছেন সাকিবুল ইসলাম। কথা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার এখন চুপ থাকার সময়। নিজে পালিয়ে গিয়ে বকবক করছেন আর দেশে মার খাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। এই বাড়িটিও তার কথা বলার জরিমানা হিসেবে চলে গেল।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। অভ্যুত্থানের ছয় মাস পূর্তি ছিল গত বুধবার। ওইদিন রাত ৯টায় নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক ছাত্র-জনতা ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ফেসবুকে ধানমন্ডি ৩২ অভিমুখে ‘বুলডোজার মিছিল’ এবং ‘মার্চ টু ধানমন্ডি ৩২’ কর্মসূচির ডাক দেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এই বাড়িতে শেখ মুজিবুর রহমান, তার স্ত্রী-পুত্র, পুত্রবধূসহ আত্মীয়দের হত্যা করা হয়েছিল। পরে এই বাড়িটিকে স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল বিক্ষুব্ধ জনতা। এর পর থেকে বাড়িটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
তোফায়েল আহমেদের গ্রামের বাড়ি ধ্বংসস্তূপ : ভোলা প্রতিনিধি জানান, সাবেক মন্ত্রী ও রক্ষীবাহিনীর প্রধান এবং ভোলা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদের বাড়িটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গত বুধবার রাতে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ওই বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন দেয়। রাত ১টার দিকে বাসভবনে আগুন দিয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উল্লাসে মেতে উঠেন। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
এগিকে বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে একদল যুবক ভোলার বাংলা স্কুল মোড়ে থেকে আওয়ামী লীগবিরোধী ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা এ ভোলাতে রাখব না’, ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই’ স্লোগান দিতে থাকে। পরে তারা বাড়ির প্রধান গেট ভেঙে প্রথমে ভেতরে প্রবেশ করে। বাসার সব আসবাবপত্র রাস্তায় ফেলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, দেশব্যাপী বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ও কলেজ শাখা ছাত্রদল ব্যানারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল নিয়ে সরকারি কলেজের প্রশাসনিক ভবণের পাশে থাকা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে ভাঙচুর চালায়। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সালমান ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক রিফাত হোসেন অনিক (পিন্টু), যুগ্ম আহ্বায়ক রাহিম আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক রেশব আহমেদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র প্রতিনিধি বাইজিদুর রহমান সিয়াম, মোহাইমিনুল আজমিন, আতিকুর আলম শান্ত, সোলতান নাইম উদ্দিন, তাসিন আরাফাত তন্নয়সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আ.লীগ কার্যালয় ও সাবেক এমপির বাড়িতে ভাঙচুর : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল ওদুদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব সাব্বির আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে বসে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়েছে।
শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভাঙচুর : চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ থেকে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগবিরোধী স্লোগান দিয়ে প্রথমে জেলা কালেক্টরেট ভবনের সামনে শেখ মুজিব ও ফজিলাতুন্নেছার ম্যুরালটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর চুয়াডাঙ্গা আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় ভাঙচুর করে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
আ.লীগের কার্যালয় এক্সকাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় ছাত্র-জনতা : নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় এক্সকাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় ছাত্র-জনতা ও নাগরিক কমিটি এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্ররা। পরে সেখানে জুলাই স্মৃতি শিশু পার্ক স্থাপনের দাবি জানায় তারা। গতকাল বিকেলে শহরের কান্দিভিটা এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ ভাঙচুর কার্যক্রম চালানো হয়। বিকেলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্ররা এক্সকাভেটর নিয়ে উপস্থিত হয় গত ৫ আগস্ট পুড়িয়ে দেওয়া জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে। পরে মুহূর্তের মধ্যে এক্সকাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় কার্যালয়টি। এ সময় আন্দোলকারী ছাত্ররা জুলাই স্মৃতি শিশু পার্ক স্থাপনের জন্য বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানান।
